• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

‘স্কুল ঘর তো নদীত চলি গেল আমরা এখন কই ক্লাস করব’



এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ►
‘স্কুল ঘর তো নদীত চলি গেল, আমরা এখন কই ক্লাস করব। আজ কতদিন থাকি স্কুল ঘর রক্ষা করার জন্য স্যার বিভিন্ন জায়গাত দৌড়া দৌড়ি করছে। এর আগত পানি সম্পদ মন্ত্রী, ডিসি, ইউএনও আসি ঘুরি গেল, তাও তো স্কুলের ঘর রক্ষা হল না। কত দিনে এই স্কুল ঘর উঠবে, তারপর আবার ক্লাস শুরু হইবে’। আমরা এখর কি করব।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ তিস্তার তীব্র ভাঙনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। এ সময় স্কুলে আসা শিক্ষার্থী ফুলমতি, সাকিলা, বিলকিছ, ছকিনা, সাগর অবলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভারাক্রান্ত মনে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৮আগষ্ট পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের তিস্তার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় লালচামার বাজারের পথসভার বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন আর কোন প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলিন হতে দেয়া হবে না। স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগেই তিস্তার পেটে চলে গেল স্কুলটি। তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে স্কুলটি নদীগর্ভে চলে গেল। এলাকার ছেলেমেয়েদের পড়া লেখার দ্রুত ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসি।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম সাদা বলেন, মঙ্গলবার ভোরে ভাঙনের খবর পেয়ে তিনি অন্য সহকারি শিক্ষকদের সাথে নিয়ে স্কুলে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কিছু আসবাসপত্র সরিয়ে নেন। সেই সাথে টিনশেড় ঘরের টিন খোলার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে একটি ঘর নদীতে চলে যায়। নিমিষের মধ্যে ওয়াশ ব্লকসহ অন্য ঘরটিও নদীগর্ভে চলে যায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, খবর পেয়ে সহকারি শিক্ষা অফিসার মুকুল চন্দ্র বর্মনসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও এলাকাবাসির সহায়তায় স্কুলের কিছু আসবাবপত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। এলাকার শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আনার জন্য অতিদ্রুত শিক্ষা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, সকালে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা অফিসার বিষয়টি তাকে অবগত করেছেন। তিনি শিক্ষা অফিসার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এলাকার ছেলেমেয়েদের পেড়া লেখার পরিবেশ ফিরে আনার দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের ভোরের পাখি স্কুলটির বিষয়ে তিনি অবগত। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু করার নাই। নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপর মহলে তথ্য প্রদান ছাড়া আর কোন কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং, শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভাব নয়।