• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৮-১-২০২৬, সময়ঃ সকাল ১০:৫৫

পলাশবাড়ীতে ৬ গ্রামের মানুষের ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো

পলাশবাড়ীতে ৬ গ্রামের মানুষের ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো—ছবি: মাধুকর।

সোহেল রানা ও আবুল কালাম আজাদ, পলাশবাড়ী

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের গণকপাড়া গ্রামের সীমানা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মচ্চ নদীর অলিরঘাট পারাপারে একমাত্র ভরসা বাঁশের সাকো। এপার-ওপারের ৬ গ্রামের মানুষের পারাপারে সেতুর অভাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ভোগান্তি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি একটি সেতু নির্মাণের।

স্থানীয়রা জানান, কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সীমানা ঘেঁষে যাওয়া প্রায় ৪০-৫০ বছরের পুরোনো গনকপাড়া গ্রামের সীমানা সংলগ্ন মচ্চ নদীর অলিরঘাট। ঘাট থেকে কিনারা অনেক উঁচু। এপার-ওপার দু-পাড়ের মানুষের পারাপারে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। ঘাটটি দিয়ে শুধুমাত্র সাধারণ পথচারী বিভিন্ন শ্রেনির মানুষ পারাপার হতে পারলেও ভ্যান, রিকশা, বাইক, সাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এ কারণে কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের গনকপাড়া, জাফর, মুংলিশপুর, পালপাড়া, শীলপাড়া, জাইতরসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় ডিঙি নৌকা পারাপারে তাদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এ ভোগান্তি চলে আসছে বছরের পর বছর।

জানা যায়, নদীর পানি শুকিয়ে গেলে চলাচলের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয় এবং নদীতে পানি বেড়ে গেলে পারাপারের জন্য ছোট ডিঙি নৌকার ব্যবস্থা করে থাকে। এ কারণে শুকনো ও বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লেগেই থাকে। এ অলিরঘাট থেকে ঘোড়াঘাটের দূরুত্ব ২ কিলোমিটার। অথচ যাতায়াতের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারে পথচারীদের ঘুরতে হয় ৮ কিলোমিটার। এই ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ছাত্রছাত্রী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল, ইয়াকুব, বদরুল ইসলামসহ আরও অনেকে বলেন, ‘আশপাশের গ্রামের মানুষও এই ঘাট দিয়ে পার হয়। বিশেষ করে তাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ ঘোড়াঘাটে ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাট-বাজার করে। এখানে একটি সেতু নির্মান করা হলে এলাকার মানুষসহ সবার অনেক উপকার হতো। আমাদের এলাকাবাসীর দাবি এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।’

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ বলেন, অলিরঘাট দিয়ে নৌকা ও বাঁশের সাঁকোয় পারাপার হয়ে আসছে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা অতি দ্রুত উচ্চ মহলে ডিসি স্যারের মাধ্যমে যোগাযোগ করবো, যাতে ব্রিজ নির্মাণ হয় এবং ওই এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা যাতে লাঘব হয়।