• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

চট্টগ্রামকে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিপিএলের শিরোপা জিতলো রাজশাহী



ক্রীড়া ডেস্ক►

দ্বাদশ বিপিএলের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করলেও এদিন রাজশাহীর কাছে কোনো পাত্তাই পায়নি চট্টগ্রাম রয়্যালস। ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বন্দরনগরীর দলটি। রাজশাহীর এটি দ্বিতীয় শিরোপা, এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে শিরোপা জিতেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

ফাইনাল ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা দেড়েক আগে হেলিকপ্টারে করে ট্রফি নিয়ে মাঠে এলেন আকবর আলী ও সালমা খাতুন। বাংলাদেশকে যুব বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক হিসেবে হীরা খচিত ট্রফিটি নিয়ে আসেন আকবর। এবারের বিপিএলে তিনি খেলেছেন রাজশাহীর হয়ে।

এরপর হলো ফটোসেশন, তবে ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখা হলো চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের। শুরু থেকেই চট্টগ্রামের দলটা নিয়ে ছিল নানা নাটকীয়তা। দলটির মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার পর দায়িত্ব নেয় বিসিবি। সেই দলটিই শেষ পর্যন্ত খেললো ফাইনাল। 

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে রাজশাহীকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মেহেদী। ফাইনাল ম্যাচে রাজশাহীর শুরুটাও হয় স্বপ্নের মতো। উদ্বোধনী জুটিতে স্কোরবোর্ডে ৮৩ রান যোগ করেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও শাহিবজাদা ফারহান। এক পর্যায়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ। তার সেঞ্চুরিতে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রানের সংগ্রহ পায় রাজশাহী। 

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। স্কোরবোর্ডে ১৮ রান যোগ হতেই মোহাম্মদ নাঈম শেখের উইকেট হারায় তারা। দুই বাউন্ডারিতে ১০ বলে ৯ রান করা এই ব্যাটারকে বোল্ড আউট করে সাজঘরে ফেরান বিনুরা ফার্নান্দো। একই ওভারে মাহমুদুল হাসান জয়কেও ফেরান এই বোলার। ২ বলে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন জয়। 

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে হাসান নাওয়াজের উইকেট তুলে নেন হাসান মুরাদ। ৭ বলে ১১ রান করে মেহেরবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪১ রান তুলে চট্টগ্রাম রয়্যালস। 

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বন্দরনগরীর দলটি। একশ’র আগেই তারা হারায় ৬ উইকেট। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১, শেখ মেহেদী ৫ বলে ৪ ও ওপেনার মির্জা তাহির বেগ ৩৬ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। 

এরপর শেষদিকে ১৯ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। ৫ বলে ৮ রান করা আমের জামালকে ফেরান জেমস নিশাম। ১৭ তম ওভারে আসিফ আলি ও শরিফুল ইসলামের উইকেট তুলে নেন বিনুরা ফার্নান্দো। পরের ওভারে মুকিদুল ইসলামকে আউট করেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। আর তাতেই ১৩ বল বাকি থাকতে ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর হয়ে বিনুরা ফার্নান্দো নিয়েছেন ৪ উইকেট। এছাড়া হাসান মুরাদ ৩টি, জেমস নিশাম ২টি ও সাকলাইন নিয়েছেন ১টি উইকেট। 

এর আগে ব্যাট করতে নেমে প্রতিপক্ষের বোলারদের একাই শাসন করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। সেঞ্চুরি পূরণ করে শূন্যে একটা লাফ, এরপর হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে উদ্‌যাপন সমাপ্ত করেন তানজিদ। উদ্‌যাপনের সময় তিনি কি জানতেন এই সেঞ্চুরিটা বিশেষ? বিশেষ এই কারণে যে, বিপিএলে এতদিন বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ২। তামিমও এই কাতারেই ছিলেন, আজ কাতার ভেঙে সবার সামনে চলে গেলেন।   

বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ঠিক ১০০ রান করলেন তামিম। তামিম ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ৬৫ বলে ১১৬ রান করেছিলেন। ২০২৫ সালে দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে করেন ১০৮। 

বিপিএলে বাংলাদেশিদের মধ্যে ২টি করে সেঞ্চুরি আছে তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের। বিদেশিদের মধ্যে সবার শীর্ষে ক্রিস গেইল। ইউনিভার্স বস ৭টি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে করেছেন ৫ সেঞ্চুরি।

মিরপুরে ধীরস্থির শুরু করে পাওয়ার প্লেতে ৪০ রান তোলা রাজশাহী প্রথম উইকেটে পায় ৮৩ রানের জুটি। সাহিবজাদা ফারহান ধীরে খেললেও সপ্তম ওভার থেকে তানজিদ তামিম হাত খুলে খেলতে শুরু করেন। ১০ ওভারের মধ্যেই ২৯ বলে তিনি ফিফটি পূরণ করেন। মুকিদুল ইসলামের শিকার হয়ে পরের ওভারে আউট হন ৩০ বলে ৩০ রান করা ফারহান।

ওয়ানডাউনে আসেন কেন উইলিয়ামসন। তার সঙ্গে তামিমের জুটি হয় ৫৩ রানের। শরিফুলকে ছক্কা মেরে পরের বলেই নাইমকে ক্যাচ দেন কিউই ব্যাটার। ১৫ বলে করেন ২৪ রান। তার বিদায়ের পরের ওভারে তিন চারে তামিম ১৭ রান তোলায় অবদান রাখেন। 

তামিম ৬১ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেও এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। পরের বল মোকাবিলায় মুকিদুল ইসলামকে উইকেট দেন তিনি। ৬২ বলের ইনিংসটিকে সাজান ৭টি ছয় ও ৬টি চারের মারে। জিমি নিশাম ৭ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ১ রান করেন। চট্টগ্রামের হয়ে শরিফুল ও মুকিদুল ইসলাম নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।