• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

সুন্দরগঞ্জের হরিপুরে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী সভা



সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান সরকারকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় বিজয়ী করার লক্ষ্যে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাত ৭ টার দিকে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাশিমবাজার নাজিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হরিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মাজেদুর রহমান।

বক্তব্যে তিনি বলেন, সুন্দরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে হারানো হয়েছে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল আজিজকে মিথ্যা মামলায় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর লাশ দেশে আনা যায়নি, জানাজাও আদায় করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে জুয়েল রানা, ফরিদুল ইসলাম ও সোহানুর রহমান সোহানকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং শাহাবুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

অধ্যাপক মাজেদুর রহমান আরও বলেন, ১৯৭৯ ও ২০০১ সালে সুন্দরগঞ্জ থেকে জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে আমি নিজে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। জনগণ আমাদের কাজ দেখেই ভোট দিয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাওলানা আব্দুল আজিজের সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আজও মানুষ স্মরণ করে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাকে না দেখেই মানুষ ব্যাটারি মার্কায় ভোট দিয়েছিল। শপথ নিতে গিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। এরপর আবার বরখাস্ত ও মামলা দেওয়া হয়। তবুও দায়িত্ব পালনকালে মানুষের উন্নয়ন ছাড়া আর কিছু করিনি। এক টাকার দুর্নীতির অভিযোগও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।

জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে জামায়াত থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীরা তিনটি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সামান্য দুর্নীতির প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অথচ অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, শুধুমাত্র দলকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য।

আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের মুখে এখন একটাই কথা-দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে-এই প্রত্যাশায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ সময় তিনি নির্বাচনসংক্রান্ত অনিয়ম ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
হরিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির জেলা আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ একরামুল হক, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি ইব্রাহিম আলী আকন্দ, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক বদরুল আমিন, আমার বাংলাদেশ পার্টির উপজেলা আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, এলডিপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম, ছাত্রশিবির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান এবং হরিপুর ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি আমজাদ হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন মাওলানা হারুন অর রশিদ।