- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
গাইবান্ধায় ২০টি ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক থাকায়; নাগরিক সেবা ব্যাহত
আশরাফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধায় মামলার ভয়ে পলাতক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। প্রকাশ্যে না এলেও গোপনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে পদ ধরে রাখছেন তারা। ফলে এ সমস্ত ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা ও বন্ধ রয়েছে গ্রাম আদালত কার্যক্রম। এতে বিচারিক আদালতে বাড়ছে মামলার জট, আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় অভিযোগে জেলার প্রায় ২০টিরও বেশি ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত চেয়ারম্যানরা। মামলার ভয়ে দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গোপনে স্বাক্ষর পাঠিয়ে নিজেদের পদ টিকিয়ে রাখছেন তারা। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান না থাকায় জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ জরুরি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করাতে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে নাগরিকদের। দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে গ্রাম আদালত কার্যক্রম। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য মামলাগুলো সরাসরি চলে যাচ্ছে বিচারিক আদালতে, এতে আদালতে বাড়ছে মামলা জট।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক মামলায় অভিযুক্ত এসব চেয়ারম্যানদের খুঁজে না পেলেও, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পলাতক চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধার বিনিময়ে আত্মগোপনে থাকা স্থান থেকেই স্বাক্ষর এনে পরিষদ পরিচালনা করছেন। চেয়ারম্যান না থাকায় নাগরিক সেবা পেতেও অতিরিক্ত অর্থ ও সময় গুনতে হচ্ছে তাদের।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা জসিম মিয়া জানান, চেয়ারম্যানকে কখনো ইউনিয়ন পরিষদে দেখা যায় না কিন্তু কিভাবে কাজ হয় আমরা জনগণও তা জানি না। একই উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বাসিন্দা ওয়ারেছ মিয়া জানান, নাম ঠিকানা দিয়ে গেলাম, সচিব সাহেব দুই দিন পর এসে নিয়ে যেতে বলেছেন। একটি কাজ করতে একাধিক দিন এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে। জনগণের অভিযোগ ও হয়রানির কথা স্বীকার করে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গ্রাম আদালতের সহকারীরা স্বীকার করেন, ইউনিয়ন পরিষদের কাজের স্থবিরতা ও গ্রাম আদালতে মামলা জটিলতাসহ নাগরিকদের হয়রানির কথা।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাসুদার রহমান সরকার জানান, মামলাজনিত কারণে চেয়ারম্যান পরিষদে নিয়মিত আসতে পারছেন না। জনগণের বিভিন্ন কাগজ পত্র চেয়ারম্যানের একান্ত কাছের লোকজনের মাধ্যমে স্বাক্ষর করে নিয়ে আসছেন। একই উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাজেদার রহমান জানান, চেয়ারম্যান নিয়মিত না আসলেও যাতে জনগণ হয়রানি স্বীকার না হয়। সে জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়ারম্যানের বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে স্বাক্ষর করে নিয়ে এসে কাজ চালানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনগণের কোনো ভোগান্তি মেনে নেয়া হবে না। এমন ইউনিয়ন পরিষদগুলো চিহ্নিত করে অনুপস্থিত চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান অনুপস্থিতির কারণে বিধি অনুযায়ী জেলার ৮১টি ইউনিয়নের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।