• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

গাইবান্ধা-৩ আসনে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী আজিজার রহমান বাইসাইকেলে মাইক বেঁধে চালাচ্ছেন প্রচারণা



সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তারপর সংসদ সদস্য। এসব পদে নির্বাচনে ৪ বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাবার পর আবারও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে সংসদ সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মোঃ আজিজার রহমান। তাঁর প্রতীক ঢেঁকি। এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ অন্য প্রার্থীরা দলবল নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, মঞ্চ সাজিয়ে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও মিছিল করছেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমানের প্রচারণার কৌশলটা ভিন্নধর্মী। তিনি আবারো নিজের সেই পুরোনো বাইসাইকেলটিতে তাঁর প্রতীক ‘কাঠের ঢেঁকি’ ও হ্যান্ড মাইক বেঁধে নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ আসনের বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রাম-গঞ্জ ঘুরে ঘুরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

আজিজার রহমান ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে এবং ২০১৯ সালে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। তারপর ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ঢেঁকি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হন। তবে এবার তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন। এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে বাইসাইকেল চালাতে চালাতেই আরেক হাত দিয়ে হ্যান্ডমাইকে কথা বলছেন। 

মাইকে বলছেন, ‘ও চাচি, ও চাচা, ও খালা, ও আপা, ও দাদি, ও দাদা, ও কৃষক ভাই, ও ভাইজান আমার ঢেঁকি মার্কায় একটি করে ভোট দেন। নির্বাচিত হলে আমি বেকার সমস্যা সমাধান করব। সংসদে গিয়ে আপনাদের সমস্যার কথা বলব।’ আজিজার রহমান কখনও রাস্তার মোড়ে মোড়ে, কখনও হাট-বাজারে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁকে দেখতে পেয়ে লোকজন জড়ো হচ্ছে। তিনি পরিবর্তনের জন্য নিজের ঢেঁকি প্রতীকে ভোট চাইছেন। 

বক্তব্য শেষে নারী ও বৃদ্ধ ভোটাররা তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করছেন। অনেকে কোলাকুলি করছেন। এসব জায়গায় আজিজার রহমান বলছেন, ‘আমার কোনো কর্মী বাহিনী নেই। আমি একাই বাইসাইকেলে নিজের প্রচারণা চালাচ্ছি। আমাকে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁরা আমাকে ভোট দেবেন।’ তিনি আরও বলেন, বাইসাইকেলে পেট্রোল লাগে না। তাই আমার নির্বাচনী খরচ নেই। আমি নির্বাচিত হলে টাকা তোলারও চাপ থাকবে না। অন্যরা যাঁরা টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন, তাঁরা নির্বাচিত হলে তো অনিয়ম-দুর্নীতি করে নিজের টাকা আগে তুলবেন। আমার ক্ষেত্রে তা হবে না। বিদেশেও যাব না। আমি এখানকার মানুষ, আমি এখানেই থাকব।’ 

আজিজার রহমান জানান, পরিবারের কাছে তিনি মাত্র ১০ হাজার টাকা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ভোটারদের কাছেও সাড়া পাচ্ছেন। তাঁরা ঢেঁকি প্রতীকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, অন্যান্য আসনের তুলনায় উন্নয়নের দিক দিয়ে সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলা অনেকটা পিছিয়ে আছে। তিনি নির্বাচিত হলে জনগণের চাহিদা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করবেন। আজিজার রহমান সাদুল্লাপুরের ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদাবকস গ্রামের বাসিন্দা। হলফনামায় তাঁর বয়স ৫৭ বছর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি পাস উল্লেখ করেছেন। পেশা শিক্ষকতা। 

তিনি ১৯৮৪ সালে সাদুল্লাপুরের ফরিদপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৭ সালে সাদুল্লাপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৯০ সালে পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে বিএসসি (পাশ) পাস করেন। ১৯৯১ সালে সহকারী শিক্ষক পদে সাদুল্লাপুরের দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত। তার স্ত্রী সালমা বেগম গৃহিণী। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে আশিকুর বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে আর মেয়ে আশামণি রংপুরের পীরগঞ্জ আবদুর রউফ সরকারি কলেজে পড়ছেন। সম্পদ বলতে তিনি বসতভিটাসহ তিন বিঘা জমির মালিক। 

প্রসঙ্গত. এ আসনে মোট প্রার্থী ১০ জন। ভোট কেন্দ্র ১৪৫টি। ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২, নারী ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন।