- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
ঈদকে সামনে রেখে নতুন সাজে পাখি পল্লী, দৃশ্যমান হচ্ছে ঝুলন্ত ব্রিজ
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ ►
মাদুর তৈরির প্রধান উপকরণ পাতি ও ধান চাষে সমৃদ্ধ উপজেলা হচ্ছে নওগাঁর রাণীনগর। উপজেলাটি ইতিহাস আর ঐতিহ্যে সমৃদ্ধিশালী হলেও কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে পুরো রতনডারা খালকে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। আর খালের দুই পাশের বড়বড় গাছকে বিনোদন কেন্দ্রের উপজীব্য করে গড়ে তোলা হয় রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা ও পাখি পল্লী। প্রতিটি উৎসবে প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা বিশুদ্ধ বিনোদনের আশায় পরিবার নিয়ে ছুটে আসেন। এছাড়া বর্ষার সময় রক্তদহ বিলের জলকেলি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন হাজার হাজার পর্যটক।
পরবর্তী সময়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান পাখি পল্লীকে টেকসই ও আরো আকর্ষণীয় করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরমধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে খালের দুই পাশে চলাচলের জন্য ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণ। ইতোমধ্যেই পাখি পল্লীতে পাখিদের আনাগোনা বৃদ্ধি করতে রোপণ করা হয়েছে পাখি ও পরিবেশ বান্ধব নানা প্রজাতির গাছ। মৎস্য অভয়াশ্রমের মাছ চুরি রোধে এবং পাখি পল্লীর নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে স্থাপন করা হয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় সিসিটিভি ক্যামেরা।
এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পর্যটন এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামোগত উপকরণগুলো হরেক রঙে রঙ্গিন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ব্যতিক্রমধর্মী এই ঝুলন্ত ব্রিজ পাখি পল্লীতে আসা পর্যটকদের মাঝে ভিন্ন ধরনের অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া এই পাখি পল্লীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন দোকান। যেখানে শতাধিক বেকার মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকদের আগমনের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি আরো গতিশীল হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান, আমাদের দেশটি অনেক সুন্দর। তাই ভাবনাগুলোকে সুন্দর করলে প্রতিটি স্থানই সুন্দর হয়। রাণীনগর একটি সমৃদ্ধিশালী উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও বিনোদনের কোনো স্থান নেই। সেই অভাবটি পূরণ করতেই পূর্বের স্যারদের গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে শতভাগ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। আশা করা যাচ্ছে আসন্ন ইদের আগেই ঝুলন্ত ব্রিজসহ রংকরণ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এবার ঈদে পাখি পল্লীতে এসে পর্যটকরা এক অন্যরকম সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ দেখতে পাবেন। আগামীতেও রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা ও পাখি পল্লীর উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানান এই কর্মকর্তা।