- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল
অনলাইন ডেস্ক ►
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে শনিবার নির্বাচন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্য পরিবেশে নির্বাচনের প্রচার চলছে। কেউ কারও বিরুদ্ধে কটুকথা বলছে না। অভদ্র আচরণ হচ্ছে না। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এটা খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন। এখন পর্যন্ত প্রস্তুতিপর্ব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখন আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ ভোটটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল।
শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। বৈঠকে নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন বাহিনী, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, সামনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ পর্যন্ত যে কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে তার হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আগামী এক সপ্তাহকে খুবই ক্রুশিয়াল মন্তব্য করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত প্রস্তুতিপর্ব নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। এখন মূল চ্যালেঞ্জ ভোটটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছেন, ভোট উৎসবমুখর হবে। নিরাপদ হবে। নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন। পুরো পরিবার একসঙ্গে ভোট উৎসবে যোগ দেবে এবং এ ভোট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বৈঠকের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, পুলিশকে বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্র। তার মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্যামেরা কীভাবে কাজ করছে সেটা বৈঠকে দেখানো হয়। বৈঠকে থেকেই প্রধান উপদেষ্টা পাঁচটি জায়গায় যারা বডি ওর্ন ক্যামেরা বহন করছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তেঁতুলিয়াতে কথা বলেছেন। খাগড়াছড়িতে কথা বলেছেন। আরেকটি বিষয় ছিল-নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ। এটা পুরোপুরি চালু হয়ে গেছে। এটা ব্যবহার করবেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। কোনো নির্বাচন কেন্দ্রে ঝামেলা হলে এই অ্যাপের মাধ্যমে সিকিউরিটি ফোর্সের কাছে দ্রুত বার্তা চলে যাবে।
রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের কাছেও বার্তা চলে যাবে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছেন। বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানরা তাদের বাহিনীর সদস্য নিয়োগ সম্পর্কে জানিয়েছেন। নির্বাচনে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখের মতো সদস্য নিয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্য ইতোমধ্যে নিয়োগ হয়ে গেছে। ১ হাজার ২১০টি প্লাটুনে বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন নিয়োগ হয়েছে। কোস্টগার্ডের ১০টি জেলায় ২০টি উপজেলার ৬৯টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ নিয়োগ হবে ১১ তারিখ সকালে। পুলিশ থাকবে ১ লাখ ৫৭ হাজার। এ ছাড়া ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৬ জন আনসার সদস্য মোতায়েন হবে আজ। র্যাব সদস্যদের মোতায়েন সময়মতো শুরু হয়ে যাবে।