• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

রাত পেরোলেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ভোট



অনলাইন ডেস্ক

রাত পেরোলেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। তাই নির্বাচন কমিশন (ইসি), রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা তাদের শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন। এই নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। সঙ্গে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের নজরদারি। শেষ সময়ে রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রার্থীরা নির্ধারণ করছেন ভোটের মাঠের কৌশল।

বাংলাদেশে ভোট একদিকে উৎসবের নাম, অন্যদিকে সংঘাত, সহিংসতা আর কেন্দ্র দখলের মঞ্চায়ন। ফলে ১২টি নির্বাচনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত উৎসব বহাল ছিল ৪টি নির্বাচনে। বাকি ৮টিতে ভোটের মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবারের নির্বাচনে আগের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। তাই ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তায় এবার বাড়তি আয়োজন রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কারচুপি এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা যুক্ত ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। মাথার ওপর নজরদারি করবে পাঁচশর বেশি ড্রোন।

এবার সশস্ত্র বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মিলিয়ে মাঠে থাকবে প্রায় ৯ লাখ সদস্য। যেখানে মূল দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ১ লাখ সেনা সদস্য, নৌ এবং বিমানবাহিনীও থাকবে বিশেষ নজরদারিতে। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা। এর সঙ্গে আছেন দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন কমিশন বলছে, কেবল বাহিনী মোতায়েন নয়; বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জাতীয় সংসদ ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা দলটির শীর্ষ নেতারা এ নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন ১৫৬ জন। এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।