• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

নানা জটিলতায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে



নিজস্ব প্রতিবেদক ►

এমএসআর ক্রয় প্রক্রিয়ায় জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের সব কার্যক্রম। রোগীরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় ওষুধ। পরীক্ষা নিরীক্ষার কেমিকেল, কীটসহ সরঞ্জামাদি না থাকায় বন্ধ রয়েছে এক্স-রেসহ সব ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা। জেলার সাত উপজেলার মানুষের প্রধান ভরসা এ হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে এসে এমন শূন্যতায় এখন হয়রানি ও বিড়ম্বনায় পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অথচ জেলার ৭ উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফ্লিমের অভাবে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সেবা, ওষুধ সংকটে খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা। শুধু তাই নয় জরুরি বিভাগের গজ ব্যান্ডেজসহ সব কিছইু বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে রোগীদের। ক্রয় প্রক্রিয়ায় জটিলতায় এমন স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের সব চিকিৎসা কার্যক্রম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জন্য ওষুধ, এক্স-রে ফিল্মসহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্যামিক্যাল ও সরঞ্জামাদি এবং যন্ত্রপাতি মেরামত, তুলা গজ, ব্যান্ডেজ, অক্সিজেন সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে ৮ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার টাকার এমএসআর ক্রয়ের জন্য চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয়।

কিন্তু তৎকালীন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতায় পুরো এমএসআর ক্রয় প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় ২০২৪-ু২০২৫ অর্থ বছর পেরিয়ে ২০২৫-২০২৬ বছরের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনিক জটিলতায় পুরো এমএসআর ক্রয় প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এতে থমকে গেছে গোটা হাসপাতালের কার্যক্রম।

দীর্ঘ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওষুধ কিনতে পারায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। হাসপাতালের বাইরে গিয়ে নিজেদের টাকায় ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি আর্থিক চাপের পাশাপাশি অর্থাভাবে অনেকের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ ওষুধ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের রোগীরা। 

ওষুধের পাশাপাশি বন্ধ এক্সেরে, ড্রোপ টেস্টসহ সব পরীক্ষা নিরীক্ষাও। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ আলট্রাসনোগ্রাফি। এমনকি জরুরি বিভাগের গজ ব্যান্ডেজ পর্যন্ত কিনতে হচ্ছে বাহির থেকে। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ইসমত জাহান বলেন, ‘হাসপাতালে তিন থেকে ভর্তি আছি কোনো ধরনের ওষুধ পাইনি সব বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।’

রোগীর স্বজন রিয়াজ উদ্দিন জানান, আগে হাসপাতালে আসলে সব ওষুধ পাওয়া যেত। কিন্তু অনেকদিন থেকে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। শুধু ওষুধ নয় জরুরি বিভাগের গজ ব্যান্ডেজ পর্যন্ত সব কিনতে হচ্ছে। এতে অনেক গরিব রোগী চিকিৎসা করতে পারছে না।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ফজলুল বারী জানান, সচল মেশিন ও জনবল থাকার পরেও ফ্লিম অভাবে দীর্ঘদিন থেকে এক্স-রে  ও কীট, কেমিক্যাল অভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে এসে ঘুরে যাচ্ছেন।

রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক কেমিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসিফ জানান, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে ওষুধ ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সরকারি সরবরাহকৃত ওষুধ দিয়ে সাময়িকভাবে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত ওষুধ কেনার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।