- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
ফুলছড়িতে চারিদিকে সবুজের সমারোহ বোরো ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা
আমিনুল হক, ফুলছড়ি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চারদিকে এখন দৃষ্টিজুড়ে সবুজের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ জুড়ে দোল খাচ্ছে বোরো ধানের কচি চারা। উপজেলার কঞ্চিপাড়া, উদাখালী, উড়িয়া ও গজারিয়া ইউনিয়নে এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ব্যাপক পরিসরে। মাসখানেক আগেই চারা রোপণ শেষ হয়েছে। এখন ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, আগাছা দমন ও সার প্রয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে সুশৃঙ্খল সারিতে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ চারা। কোথাও কৃষক সেচ দিচ্ছেন, কোথাও আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ জমিতে সার ছিটাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা। গ্রামীণ জনপদে এখন যেন বোরো মৌসুমের কর্মচাঞ্চল্য।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। সময়মতো বীজতলা প্রস্তুত ও চারা রোপণ শেষ হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি এখন ভালো রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং শীতের তীব্রতা কম থাকায় চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কম ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এবারের বোরো মৌসুমে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি, সব মিলিয়ে কৃষকদের ব্যয় এখন অনেক বেশি। তারপরও আশার কথা হলো, বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ও আশাবাদ দেখা যাচ্ছে।
পূর্ব ছালুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এবার সময়মতো জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করতে পেরেছি।
বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা ভালো। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও সার প্রয়োগ করছি। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে ভালো ফলন পাবো বলে আশা করছি।’ তবে তিনি জানান, সার ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বাজারে ধানের দাম কম হলে কৃষকের কষ্ট বাড়বে। সিংড়িয়া গ্রামের কৃষক আজাদুল ইসলাম বলেন, ‘জমিতে এখনো তেমন রোগবালাই দেখা যায়নি। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় সার দিচ্ছি। জমিতে পানি ধরে রাখার দিকেও নজর দিচ্ছি। গত বছর ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছিল। এবার আরও ভালো ফলনের আশা করছি।’ তিনি বলেন, কৃষকরা এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত সারের দাম, সেচ খরচ ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, চারা রোপণের পর প্রথম দিকে ঠান্ডা ও কুয়াশা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। এখন গাছ দ্রুত বেড়ে উঠছে। তবে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।
ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিন্টু মিয়া বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ফুলছড়ি উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ সন্তোষজনক। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে জমি পরিদর্শন করছেন। সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ, আগাছা দমন ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় আমরা সচেতনতা বাড়াচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো জমিতে রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।’
সব মিলিয়ে, সবুজে মোড়া ফুলছড়ির মাঠ এখন কৃষকের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে এ বছর বোরো ধানের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে কিনা, তা অনেকটাই নির্ভর করছে বাজারে ধানের ন্যায্য দামের ওপর। কৃষকরা এখন সেই আশাতেই দিন গুনছেন।