- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
ফুলছড়িতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক
ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ চন্দিয়া গ্রামে রহিমা আকতার শিল্পি (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শুক্রবার সন্ধ্যায় ৭টার দিকে ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রহিমা আক্তার শিল্পী একই উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের অবিজল মুন্সীর মেয়ে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী সোলায়মান মিয়া (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই স্ত্রী রহিমা আকতার শিল্পির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। মাস খানেক আগে স্বামীর নির্যাতনের কারণে শিল্পি বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে স্বামী সোলায়মান মিয়া বৃহস্পতিবার রাতে তাকে সেখান থেকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নিহতের ভাই, ফুলছড়ি উপজেলার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, সোলায়মান মিয়ার তিন স্ত্রী রয়েছে। রহিমা আকতার শিল্পি ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও নাতি-নাতনিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ লেগেই ছিল। স্বামী নিয়মিত মাদকের টাকা দাবি করতেন। টাকা না পেলে মারধর করতেন। ইতিপূর্বে স্বামী সোলেয়মান মিয়ার বিরুদ্ধে থানার নির্যাতনের অভিযোগও করেছিলেন রহিমা আকতার শিল্পী। এনিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে পারিবারিক কোলহ মীমাংসা করা হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকালে আবারও মাদকের টাকা চান সোলায়মান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুপুরের দিকে রহিমা আকতার শিল্পিকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের ধর্নার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
নিহতের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৪) বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার মাকে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারপর থেকে পরদিন শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আমি এবং আমার ভাই দেখা করতে চাইলেই আমার বাবা ও পরিবারের লোকজন ঘর তালাবদ্ধ রাখে এবং ঘরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এরপর শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন তার বাবা সোলায়মান ও অন্যরা ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার মাকে নিচে নামাচ্ছেন।
ঘটনাস্থলে তার আরও দুই সৎ মা উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। নিহতের ছেলে ধারণা করছেন তার মাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে । এসময় আব্দুর রাজ্জাকের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে তার বাবা সোলেয়মান পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ কল দিলে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সাড়ে ৮টার দিকে থানায় নিয়ে যায়। নিহতের ভাই দাবি করেন, তার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গলায় শ্বাসরোধের স্পষ্ট দাগ দেখা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোহাম্মদ আলী ফুলছড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তাছাড়া অভিযোগ পেলে তার ভিত্তিতে মামলা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।