- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
চরাঞ্চলে মরিচের বাম্পার ফলন
ভবতোষ রায় মনা ►
দেশের উত্তরের নদীবেষ্টিত জেলা গাইবান্ধা। তিস্তা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীর বুকে জেগে উঠেছে শতাধিক চর। প্রতি বছরের মতো এসব চরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে হাইব্রিড জাতের মরিচ। সেখানে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে মরিচের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। মরিচ ক্ষেতে কৃষকের পরিশ্রম আর সঠিক পরিচর্যায় গাছও হয়ে উঠেছে সুস্থ-সবল। এখন গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে টকটকে মরিচের বাহার। অনেক গাছ মরিচের ভারে নুয়ে পড়ছে। এ ধরনের দৃশ্য দেখে মরিচ চাষিদের মন ভরে উঠেছে। অল্প খরচে বেশি লাভের আশায় মরিচ ক্ষেতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। দিনের অর্ধেক সময়ে মরিচ তুলে বিকেলে বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নেয় কৃষকরা। সপ্তাহে প্রায় দু’দিন বসে মরিচের হাট। অনেকেই আবার মরিচ তুলে নিয়ে বাড়িতে অথবা ফসলের মাঠ থেকে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকেন।
জেলার গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ও সুন্দরগঞ্জসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে চাষ হয় এ মরিচ। বিশেষ করে ফুলছড়ি উপজেলা মরিচের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলের পলি ও বেলে-দোআঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য উপযোগী। চলতি রবি মওসুমে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মরিচের সবুজের সমারোহের এ দৃশ্য বিমোহিত করছে সবাইকে। এ বছর ফলন ভালো হওয়া এবং বেশ দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরা।
উড়িয়া ইউনিয়নের হাজীরভিটা এলাকা কৃষক জসিজল হক বলেন, ১ বিঘা জমিতে দেশি মরিচের চাষ করেছি। এতে আমার ব্যয় হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। নারী শ্রমিক রাহেলা বেগম বলেন, জমিতে কাজ করে সন্ধ্যার দিকে ৩শ’ টাকা মজুরি পাই। সেই টাকা সংসার চলছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রোস্তম আলী বলেন, মাঠপর্যায়ে মরিচ চাষের বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা করতে কৃষকদের কাছে কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়েই যাচ্ছেন। প্রতিবছর মরিচের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানকার মরিচ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে।