- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে সজনে ফুল
ভবতোষ রায় মনা ►
ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতুতেই প্রকৃতি ভিন্নরূপে ধরা দেয়। ষড়ঋতুর এ দেশের প্রকৃতিতে ঋতুভেদে ফোটে নানা রকম ফুল, এসব ফুল প্রকৃতিতে শোভা ছড়ায় ও প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলে। প্রতিটি ঋতুর প্রভাবে ও নানারকম ফুলে প্রকৃতি সেজে ওঠে অনন্য বর্ণিল সাজে। তেমনই সাদা-শুভ্র এক ফুল সজনে গাইবান্ধায় প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে। গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এসব ফুল যেন প্রকৃতিকে অনাবিল সাজে সাজিয়ে তুলেছে। ছোট ছোট এসব ফুলের লোভনীয় সৌন্দর্যে ও ঘ্রাণে বিমোহিত হচ্ছেন পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রকৃতিপ্রেমী ও ফুলপ্রেমীরা।
সজনে ডাঁটা শুধু উপাদেয় খাদ্যই নয়, এর পাতা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সজনে পাতাকে বলা হয় ‘অলৌকিক পাতা’, ‘নিউট্রিশন সুপার ফুড’, ‘পুষ্টির ডিনামাইট’ ইত্যাদি। ক্যানসার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধীসহ এর রয়েছে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ২৮টি উপাদান। সজনে ডাঁটা কোলেস্টেরলের লেভেল কমানো হজম শক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, কোলাইটিস এবং জন্ডিসের সময় ব্যাপক কার্যকরী সজনে পাতা। কাঁচা পাতার রস আরও বেশি উপকারী শরীরের জন্য। এ ছাড়াও শত বছর ধরে তিনশ’রও বেশি রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সজনে পাতা চা করেও খাওয়া যায়। সেদিক থেকে সজনে গাছকে ‘সজন’ এবং ‘সুজন’ দুই অর্থেই নেওয়া যায়।
এমন এক মহামূল্যবান গাছ যত্রতত্র বেড়ে উঠছে গাইবান্ধার সাত উপজেলাজুড়ে। মানুষের বাসাবাড়ির আঙিনাসহ পরিত্যক্ত স্থানে বেড়ে ওঠা সজনে গাছগুলোয় এখন ছেয়ে আছে ফুলে ফুলে। পাতাঝরা বসন্তে পাতাহীন সজনে গাছগুলোয় শুধু দোল খাচ্ছে সাদা ফুল। আর কদিন পরই দোল খাবে সজনে ডাঁটা।
পৌর এলাকার জুয়েল মিয়া বলেন, অনেকটা বিনা পরিশ্রমে শুধু একটি ডাল সংগ্রহ করে বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে লাগিয়ে রাখলে কিছুদিনের মধ্যেই গাছ বড় হয়ে যায়। বাড়তি কোনো পরিচর্যা করতে হয় না। ডাল রোপণের কয়েক মাস পরই ফুল থেকে শজনে আসে। আর এর জালি পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়, যা খুবই পুষ্টিকর। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া গ্রামের আতিকুর রহমান বলেন, ডাল থেকেই সজনে গাছ হয়। আমাদের বাড়িতে অবহেলা-অযত্নে বেড়ে ওঠা গাছগুলো থেকে প্রতি বছর বহু পরিমাণ সজনে ডাঁটা পাই। তিনি বলেন, মৌসুমের প্রথম দিকে দামটা বেশি থাকলেও পরে কমতে শুরু করে। শুধু গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছেই নয়, শহরের মানুষের কাছেও সজনে ডাঁটা ও পাতার ব্যাপক কদর রয়েছে।
এসকেএস হাসপাতালের পরিচালক ডা: এসি সাহা বলেন, সজনে ডাঁটা, সজনের পাতা ও ফুল নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর নিরাপদ খাবার। সজনে গাছের ছাল ও পাতা ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ঔষধি গুণে ভরা একটি সবজি হিসেবে সজনে ডাঁটার গুরুত্বারোপ করে তিনি সজনের ডাল লাগানোর জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপপরিচালক রোস্তম আলী বলেন, সজনে খুবই পুষ্টিকর সবজি। সজনে ডাঁটার দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়। সব সময় এর দাম অন্যান্য সবজির চেয়ে বেশিই থাকে। এর চাহিদাও বেশ। এ জেলাতে সজনে ডাঁটা বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। যদিও সজনে গাছ প্রতিটি বাসাবাড়ি, পাড়া-মহল্লায় আছে কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে এটি উৎপাদন করা হয় না। আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে। আশা করা যায় আগামীতে এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে সজনে ডাঁটা উৎপাদন করা হবে। বিনাশ্রম বা বিনা খরচে এটি খুবই লাভজনক সবজি।