- মাধুকর প্রতিনিধি
- তারিখঃ ৭-৩-২০২৬, সময়ঃ সকাল ০৯:১৭
দিনাজপুরে পেঁয়াজ বীজ চাষে জহুরুল হকের বাজিমাত
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ►
সারি সারি পেঁয়াজের গাছে ডগার মাথায় ফুটে আছে ফুটান্ত সাদা সাদা ফুল। সাদা সাদা ফুল দোল খাচ্ছে বাতাসে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সাদা ফুলের সমুদ্রে ঢেউ। দোল খাচ্ছে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের ক্ষেতে। আর এই ফুল থেকেই উৎপাদন হচ্ছে পেঁয়াজের বীজ। এমন বাগান করেই সফলতা পেয়েছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের কৃষক জহুরুল হক। প্রথমবারের মতো শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন তিনি। তার এই সফলতা দেখে অনেক কৃষকই এখন পেঁয়াজ বীজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষকদের উৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগও।
জানা যায়, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ বীজ চাষ শুরু করেন মোহাম্মদ জহুরুল হক। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে ১৬০ কেজি পেঁয়াজের কন্দ, ২০ কেজি ডিএপি সার, ২০ কেজি এমওপি সার, বালাইনাশক এবং বীজ সংরক্ষণ পাত্র দেওয়া হয়েছে।
কৃষক মোহাম্মদ জহুরুল হক বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে এ বছর আমি ৩০ শতাংশ জমিতে ১৬০ কেজি পেঁয়াজের কন্দ লাগিয়েছি। আমি আশা করছি প্রতি শতক জমি থেকে প্রায় ৪ কেজি করে পেঁয়াজ বীজ পাবো। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেঁয়াজ বীজ চাষে বেশি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পেঁয়াজের ক্ষেতে ফুল এসেছে। এই সময় থেকে নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ দিন কৃষকদের হাতে পরাগায়নের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জমিতে পানির ঘাটতি না হওয়া এবং অতিরিক্ত সেচ না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বলেন, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বছর উপজেলায় ১০ জন কৃষককে নিয়ে শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে চাষীদের কে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।