• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন ৩৭৫৬৭ নারী



অনলাইন ডেস্ক ►

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আজ মঙ্গলবার বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। প্রথম ধাপে সারাদেশ থেকে বাছাই করা ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারী এ কার্ড পেতে যাচ্ছেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা তাদের ব্যাংক হিসাবে বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পেয়ে যাবেন। কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না বলেও গতকাল সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়ার পদ্ধতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, ‘প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি বিবেচনায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের সাহায্যে প্রক্সি মিনস টেস্টিংয়ের (সরাসরি আয়ের পরিবর্তে সম্পদ ও জীবনমানের মানদণ্ড) মাধ্যমে তালিকা বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে উপকারভোগী নির্বাচনে কোনোরূপ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিন প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারে ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিট্যান্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫টি খানার তথ্য যাচাইয়ে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এরপর সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারের নারীপ্রধানকে বাছাই করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রত্যেক নারীপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। চিপ সংবলিত এ কার্ডে কিউআর কোড (বার কোডের তথ্যসহ) ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে; ফলে কার্ডটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে। পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে বলে অনুষ্ঠানে বলা হয়।

মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬%) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪%) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে।

একজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করলে তিনি এ সুবিধা পাবেন কিনাÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্দলীয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে চিন্তা করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, বরং সব নাগরিকের জন্য। এমনকি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের ধারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে সব তথ্য জনগণের কাছে থাকবে। তো এই ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা সর্বজনীন, অর্থাৎ এখানে কোনো দলীয় প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে ‘যুগান্তকারী পদ্ধতি’ বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে। ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অপচয় কমবে এবং প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে যে ‘অপচয়’ হচ্ছে তা কমানোর পক্ষে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।