- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু আজ
অনলাইন ডেস্ক ►
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা আজ বুধবার শুরু হচ্ছে। বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। এদিন শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ নিহতদের জন্য শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। তার সংসদের ওপর আলোচনা হয়। কিন্তু এই সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াত। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ভাষণের প্রতিবাদে ‘ওয়াকআউট’ করতে পারেন জামায়াত ও তাদের মিত্র দলের সংসদ সদস্যরা।
এদিকে, গত বুধবার সংসদে সরকারি দলের সভাশেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রারম্ভিক স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের পর বিধি মোতাবেক রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন। এরপর আবার অধিবেশন বসবে। আইনমন্ত্রী ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপনের পর রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশন মুলতবি হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হবে। সংসদের বিধি মোতাবেক শপথ নেবেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। আর ১৫ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশন হয়ে এরপর বিরতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সংসদ অধিবেশনের শুরুতে জনপ্রত্যাশা, শহীদদের আকাক্সক্ষাসহ বিএনপি জুলাই সনদে যা কিছুতে সম্মত হয়েছে তা ধারণ করা হবে।
এদিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে জামায়াত কী ভূমিকা নেবে জানতে চাইলে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অনেক আলাপ-আলোচনা করেছি এ ব্যাপারে। কালকে (আজ) আমাদের দৃশ্যমান ভূমিকা আপনারা দেখবেন। যেমন সূর্য উঠবে, তেমন ভাষণ শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকাও দেখবেন।
ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সনদেই আছে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবে। আমরা খণ্ডিতভাবে এটি চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিস মিল; পুরোটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।
এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কথা বলেছে। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই, জুলাই সনদের সংস্কারের প্রস্তাবগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। এর আলোকে বিরোধী দলের যতটুকু পাওনা, আমরা ততটুকু চাই, এর বেশি চাই না।
আজ অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার নিয়োগ দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে স্পিকার হিসেবে জোর আলোচনায় রয়েছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া ড. আবদুল মঈন খান ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম শোনা যাচ্ছে। সংসদ উপনেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার পদ সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে সায় দেয়নি জামায়াত। সে ক্ষেত্রে সরকারি দল থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। স্পিকারের ডেপুটি হিসেবে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আন্দালিব রহমান পার্থ ও মুহম্মদ নওশাদ জমিরের মধ্যে একজনকে দেখা যেতে পারে।
এদিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের বলেন, এবারের সংসদ চিরাচরিত নিয়মের মতো বসবে না। যেহেতু পুরনো স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নেই। সংসদে একটা খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করা হবে। একজন কোরআন তিলাওয়াত করবেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা ঘোষণা করবেন এই সভার সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম; প্রস্তাব করার পর কোনো একজন সমর্থন করবেন। তারপর তিনি সেখানে সভাপতিত্ব করবেন। সেই সভায় স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, স্পিকার নির্বাচন হওয়ার পর তিনি আসন গ্রহণ করলে সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব উত্থাপন হবে এবং তা নিয়ে আলোচনা হবে। শোকপ্রস্তাবে প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে আলোচনা হবে, জুলাই যোদ্ধা, দেশবরণ্যে ব্যক্তিবর্গ যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের নিয়ে আলোচনা হবে।
এরপর ১৩৩টা অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে। অধ্যাদেশগুলো আইনমন্ত্রী উপস্থাপন করবেন। ২০২৪ সালে কর্মকমিশনের প্রতিবেদন উত্থাপন হবে, এরপর সংসদ নেতা বক্তব্য রাখবেন। তিনি আরও বলেন, বিশেষ কমিটিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যাবে, যেটা ল্যাপস হবে, যেটা গ্রহণ করার তা নিয়ম অনুযায়ী হবে। যেগুলো পাস করার তা আমরা সংসদে পাস করব ইনশআল্লাহ। চিফ হুইপ বলেন, সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি, বিশেষ কমিটি, সংসদ কমিটিগুলো করার আমরা চেষ্টা করব। যদি কালকে না করা যায় পরবর্তী দিনে এসব কমিটি করব।
জুলাই সদন নিয়ে প্রশ্নে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা শপথ নিইনি। কারণ এটা সংবিধানে নেই। সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এদিকে চলতি অধিবেশ সংক্ষিপ্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা প্রথম অধিবেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না। কেননা এখনও সেই নির্বাচনের তফসিল হয়নি।
এদিকে অধিবেশন ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়। এ ছাড়া সংসদ ভবনসহ আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। অধিবেশন কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞত্তি দিয়েছে ডিএমপি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানের পর বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। সেদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দুটি আসনের নির্বাচনের ফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯, জামায়াতে ইসলামী ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৭টি আসনে।