• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

আপডেট: বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ বর-কনেসহ নিহত ১৪



অনলাইন ডেস্ক ►

খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর সাব্বির, কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়াসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের ১৩ জনই একই পরিবারের সদস্য। গতকাল বেলা ৩টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

রামপাল থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বেলা ৩টার দিকে একটি বাসের (বাংলাদেশ নৌবাহিনীর) সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে কনেসহ তিনজন নারী, তিনজন শিশুও রয়েছেন। দুর্ঘটনার খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বলছে, খুলনার কয়রায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে কনেকে নিয়ে বাগেরহাটের মোংলায় নিজেদের বাড়ি ফিরছিলেন মাইক্রোবাসের যাত্রীরা। আর মোংলা থেকে খুলনায় যাচ্ছিল বাসটি। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আবদুর রহমান সাব্বির ও মারজিয়া মিতুর বুধবার রাতে বিয়ে হয়। গতকাল বিকালে দুই পরিবারের সদস্যরা কয়রা থেকে মাইক্রোবাসে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন। পথে নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ১২ জন মারা যান। নিহত ১০ জনের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। বাকি চারজনের লাশ রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সুকান্ত কুমার জানান, দুর্ঘটনার পর চারজনকে মৃত অবস্থায় এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। বাকি আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোর্শেদ জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও চারজন পুরুষের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। কনের বাবা আবদুস সালাম জানান, বুধবার রাতে কয়রার নাকসায় মিতু ও সাব্বিরের বিয়ে হয়। মেয়ে মিতুসহ তার আরেক মেয়ে, মা ও শাশুড়িসহ একই পরিবারের চার সদস্য ওই মাইক্রোবাসে ছিলেন। প্রত্যেকেই এ দুর্ঘটনায় মারা যান।

সড়ক দুর্ঘটনায় বর সাব্বিরের বাবা মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকও নিহত হয়েছেন। বাগেরহাট-৩ আসনের এমপি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ১৩ জন নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।