- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
গোবিন্দগঞ্জ ও রংপুরে হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা; দুশ্চিন্তায় কৃষক
নিজস্ব প্রতিবেদক ►
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বিস্তীর্ণ আলুর খেত। উঠতি আলু তোলার মৌসুমেই আকস্মিক এ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায়, এই দুর্যোগ যেন তাদের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার সকালে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার রাজাহার, শাখাহার, শাপমারা ও কামদিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের আলুর জমিতে পানি জমে যায়। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ওই সময়ে এলাকায় প্রায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমাংশে জয়পুরহাট সীমান্তঘেঁষা এলাকায় কয়েকদিন ধরেই কৃষকরা আলু তোলার কাজ করছিলেন। শুক্রবার সকালেও অনেকে জমিতে আলু তুলছিলেন। কিন্তু হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে অনেক জমি পানিতে তলিয়ে যায়। বেশিরভাগ জমিতে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত নালা বা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
আলু চাষিরা জানান, জমিতে পানি জমে থাকলে মাটির নিচে থাকা আলু দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি কাদাযুক্ত জমি থেকে আলু তুলতে সময় বেশি লাগে এবং শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়াতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা বলেন, একদিকে আলুর বাজারদর কম, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ঝুঁকি-সব মিলিয়ে এবার চরম সংকটে পড়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, সকালের বৃষ্টিতে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের আলুর জমিতে পানি জমেছে। কৃষকদের দ্রুত জমির পানি নিষ্কাশন এবং আলু তুলে বাজারে বিক্রি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ভেজা আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আউশ ধান আবাদ করতে চান, তাহলে তাদের ক্ষতি পোষাতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

রংপুর প্রতিনিধি
আলুর দাম এমনিতেই কম, তাতে আবার হঠাৎ বৃষ্টিতে অধিকাংশ আলুর জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির এই জমে থাকা পানির কারণে আলুর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনেক জমিতে আলু তোলার সময় হয়েছে। কিছু কিছু জমিতে আলু তোলা শুরুও হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে আলুর জমি এখন পানির নিচে।
এ অবস্থায় পানি যদি ৩-৪ দিন থাকে, তা হলে আলু নষ্ট হতে পারে। তবে কৃষি অফিস বলছে, জমি থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে কিংবা সেচের মাধ্যমে জমি শুকাতে পারলে ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে। রংপুরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সারাদেশের মতো রংপুরেও রাতে বৃষ্টি হয়েছে। রংপুরে ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মাসে আরো কয়েকবার বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় প্রায় ৬৬ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। বিশেষ করে মিঠাপুকুর, পীররগাছা, কাউনিয়া, গংগাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ আলু চাষে এগিয়ে। জেলায় এবারে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টন আলু। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ উত্তোলন করেছে কৃষকরা। বাকী ৫০ ভাগ আলু এখনও জমিতে তোলার অপেক্ষায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানির নিচে আলুর জমি। বৃষ্টির কারনে ক্ষেতের আলু দেখা যাচ্ছে। অনেক জমিতে আলু তোলা শুরুও হয়েছিলো। কিন্তু বৃষ্টির পানির কারনে সেই আলু তোলার আর সুযোগ নেই। জমির পানি শুকালে আলু তোলা যাবে। অনেকে আলু তুলে জমিতেই আলু রেখেছিলো। সেই আলু ভিজে একাকার হয়ে গেছে। অনেকেই সেচের মাধ্যমে জমির পানি কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে পানি বেশি হওয়ার কারনে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি আলু চাষিরা।
আলুচাষি তাহের মিয়া জানান, আলু চাষ করে এমনিতেই মাথায় হাত। তাতে আবার হঠাৎ বৃষ্টিতে আলু জমিতে পানি জমেছে। জমিয়ে থাকা পানিগুলো সেচ দেওয়া হচ্ছে। তবে পুণরায় বৃষ্টি হলে আলুর আরো ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এমনিতেই যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে উঠার সুযোগ নেই। অপর আলু চাষি রমিজ উদ্দিন জানান, আলুর ক্ষেতে গিয়ে দেখি পানি আর পানি। আর দুই চারদিন পর আলু তোলার কথা ছিলো। এই আলু পানির কারনে পচে যাবে। পচে না গেলেও দাগ হবে। যার কারনে আলুর দাম একেবারে কমে যাবে। এমনিতে বাজারে আলুর দাম এবার কম। আলুতে দাগ পরলে আরো কমে যায় দাম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, হঠাৎ বৃষ্টির কারনে আলুর অনেক ক্ষেত এখন পানিতে ডুবে গেছে। কৃষি অফিস থেকে চাষি পর্যায়ে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আলুর ক্ষেত থেকে পানি শুকানোর ব্যবস্থা করার জন্য বলা হয়েছে চাষিদের। দ্রুত পানি শুকায় গেলে তেমন ক্ষতি হবে না, তবে পানি দীর্ঘয়িত হলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কি পরিমাণ আলুর ক্ষতি হয়েছে, তা নিরুপনে কাজ চলছে।