• মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে

এসএসসির প্রস্তুতি : ইতিহাস পরিচিতি



অনলাইন ডেস্ক ►

প্রথম অধ্যায়
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১। ইতিহাসের স্বরূপ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : ইতিহাসের স্বরূপ বলতে বোঝায় এর নিজস্ব
রূপ। জ্ঞান অর্জনের অন্যান্য শাখা থেকে ইতিহাস কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এর রচনা ও উপস্থাপনার পদ্ধতিও ভিন্ন।
যেমন-সত্যনিষ্ঠ তথ্যের সাহায্যে অতীতের পুনর্গঠন করা ইতিহাসের একটি বৈশিষ্ট্য, যা জ্ঞান অর্জনের অন্যান্য শাখার মতো নয়। তাই বলা যায়, ইতিহাসের স্বরূপ হলো তার নিজস্ব স্বকীয়তা বা বৈশিষ্ট্য।

২। ইতিহাস পাঠে কিভাবে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়?
উত্তর : ইতিহাসের জ্ঞান মানুষকে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সজাগ করার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

ইতিহাসের জ্ঞান মানুষকে সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো বুঝতে সহায়তা করে। আর বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন সম্পর্কে জানতে পারলে মানুষ ভালো-মন্দের পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। এভাবেই ইতিহাস মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

৩। ইতিহাসকে শিক্ষণীয় দর্শন বলা হয় কেন?
উত্তর : ইতিহাস মানুষকে দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা দেয় বলে একে শিক্ষণীয় দর্শন বলা হয়। মানুষ ইতিহাস পাঠ করে অতীত ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠী ও সভ্যতার উত্থান-পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ সচেতন হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারে। আর এ জন্যই ইতিহাসকে শিক্ষণীয় দর্শন বলা হয়।

৪। ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : মানবসমাজের সভ্যতার বিবর্তনের সত্যনির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস। যে কারণে জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাস পাঠ মানুষকে বর্তমান অবস্থা বুঝতে ও ভবিষ্যত্ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে দেশ, জাতির স্বার্থে ও ব্যক্তিপ্রয়োজনে ইতিহাস পাঠ অত্যন্ত জরুরি।

৫। ইতিহাসের পরিসর ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : ইতিহাসের পরিসর বলতে বোঝায় তার আলোচনার সীমা। ইতিহাসের আলোচনার সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কারণ ইতিহাস একটি প্রবহমান ধারা। মানবসমাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত। বস্তুত মানবসমাজের চলমান ধারার সঙ্গে প্রতিনিয়ত ইতিহাসের পরিসর সম্প্রসারিত হচ্ছে। একের পর এক বিষয় ইতিহাসভুক্ত হচ্ছে আর ব্যাপকতা লাভ করছে ইতিহাসের পরিসর।

৬। ‘নিরপেক্ষতা ইতিহাসের বৈশিষ্ট্য’-বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর : নিরপেক্ষতা ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নিরন্তর প্রবহমান ইতিহাসের রচনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে প্রতিটি মানুষের পর্যবেক্ষণক্ষমতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। যে কারণে একই ইতিহাসের ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। ঘটনার নিরপেক্ষ বর্ণনা বা উপস্থাপনা না হলে তা সঠিক ইতিহাস হয় না।

৭। ঐতিহাসিক হেরোডোটাসকে ইতিহাসের জনক বলা হয় কেন?
উত্তর : হেরোডোটাসকে ইতিহাসের জনক বলা হয়। কারণ তিনিই প্রথম তাঁর গবেষণাকর্মের নামকরণে ঐরংঃড়ৎরধ শব্দটি ব্যবহার করেন। ইতিহাসের ধারণা মূলত প্রথম তাঁর কাছ থেকেই পাওয়া যায়। হেরোডোটাসই প্রথম ইতিহাস এবং অনুসন্ধান এ দুটি ধারণাকে সংযুক্ত করেন। তাঁর গবেষণার ফলেই ইতিহাস পরিণত হয় বিজ্ঞানে, পরিপূর্ণভাবে হয়ে ওঠে তথ্যনির্ভর।

৮। ইতিহাসের উপাদান বলতে কী বোঝ?
উত্তর : যেসব তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব, সেগুলোকে ইতিহাসের উপাদান বলা হয়। সঠিক ইতিহাস লিখতে ঐতিহাসিক উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাসের উপাদানগুলো লিখিত ও অলিখিত-এ দুই ভাগে বিভক্ত। লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে-সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র, চিঠিপত্র ইত্যাদি। আর অলিখিত উপাদানের আওতাভুক্ত হচ্ছে মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তা¤্রলিপি, ইমারত ইত্যাদি। অলিখিত উপাদানকে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানও বলা হয়।

৯। সঠিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে সাহিত্যের অবদান ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : সঠিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে সাহিত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমরা সাহিত্যিক বর্ণনা থেকে কোনো জাতির ঘটে যাওয়া সমসাময়িক আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারি। যেমন-মিনহাজ-উস-সিরাজের ‘তবকাত-ই-নাসিরী’ থেকে আমরা বখতিয়ার খলজির বহু যুদ্ধ বিজয় সম্পর্কে জানতে পারি।

১০। ভৌগোলিক অবস্থানগত ইতিহাসের ধরনগুলো ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : ইতিহাসে স্থান পাওয়া বিষয়বস্তুকে ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। একে ভৌগোলিক অবস্থানগত ইতিহাস বলে। এভাবে ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে ইতিহাসকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) স্থানীয় বা আঞ্চলিক ইতিহাস
(খ) জাতীয় ইতিহাস (গ) আন্তর্জাতিক ইতিহাস।

১১। বিষয়বস্তুগত ইতিহাসের পরিচয় ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : কোনো বিশেষ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে ইতিহাস রচিত হয়, তাকে বিষয়বস্তুগত ইতিহাস বলে। ইতিহাসের মূল বিষয়বস্তু হলো মানুষ। সাধারণভাবে একে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) রাজনৈতিক ইতিহাস
(খ) সামাজিক ইতিহাস
(গ) অর্থনৈতিক ইতিহাস
(ঘ) সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং
(ঙ) কূটনৈতিক ও সাম্প্রতিক ইতিহাস।