• মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১৩ ঘন্টা আগে

সারা দেশে আসছে ফুয়েল পাস: জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল বিপ্লব



অনলাইন ডেস্ক ►

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং আধুনিক করতে দেশজুড়ে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে রাজধানী ঢাকার নির্বাচিত কিছু ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রজেক্ট) এই সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু মোটরসাইকেল আরোহীরা এই সুবিধার আওতায় এলেও ভবিষ্যতে সব ধরনের যানবাহনকেই এই ডিজিটাল সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

যেভাবে কাজ করবে ফুয়েল পাস:
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডেটাবেজের সাথে সমন্বয় করে এই অ্যাপটি কাজ করবে। যেসব মোটরসাইকেলের বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন আছে, কেবল তারাই এই অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে তেলের পরিমাণ এবং রেশনিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে, ফলে অনিয়ম বা চাহিদার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে না।

বর্তমান অবস্থা ও লক্ষ্য:
প্রাথমিকভাবে রাজধানীর সাতটি ফিলিং স্টেশনে এই কার্যক্রমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোর কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পাম্প কর্মীদের স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিআরটিএ-এর প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে আগামী মে মাসের মধ্যেই সারা দেশে এই কার্যক্রম পুরোদমে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়।

ফুয়েল পাসের সুবিধা:
১. স্বচ্ছতা: তেলের হিসাব ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে।
২. রেশনিং: সিস্টেমের মাধ্যমে তেলের লিমিট নির্ধারণ করা থাকবে, ফলে যত্রতত্র তেল উত্তোলন বা কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব হবে।
৩. বিশৃঙ্খলা হ্রাস: অ্যাপ ব্যবহারের ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমবে।
৪. নিরাপত্তা: বৈধ রেজিস্ট্রেশনবিহীন কোনো যানবাহন এই সিস্টেমের আওতায় তেল নিতে পারবে না, যা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম সফল হলে দেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় ধরনের ডিজিটাল রূপান্তর সাধিত হবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকাসহ চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে এর পরিধি বাড়িয়ে মে মাসের মধ্যে এটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে।