• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

গণপরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ, ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রী



অনলাইন ডেস্ক ►

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আঁচ এসে লেগেছে দেশের গণপরিবহন খাতে। ভাড়া কত বাড়ছে-এই প্রশ্নের উত্তর আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও পরিবহন মালিক সমিতির মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর আজ একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সব পক্ষকে বিবেচনায় রেখে যাত্রী ও পরিবহন মালিক-উভয়ের জন্যই যৌক্তিক একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, আজকের মধ্যেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।” এর আগে গত রবিবার বিআরটিএ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর দাবি তোলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, বৈঠকে কিলোমিটারপ্রতি ২৫ পয়সা বাড়ানোর বিষয়ে একটি খসড়া আলোচনার টেবিলে থাকলেও কোনো পক্ষই এতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেনি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে সরকার সম্প্রতি ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। গত ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হওয়ার পরই গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।

সরকারিভাবে নতুন ভাড়া এখনো ঘোষণা করা না হলেও, দেশের বিভিন্ন রুটে বাস শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা গুণছেন, আবার কোথাও কোথাও এই নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এই অস্থিরতা নিরসনে পরিবহন মালিক সমিতি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনোভাবেই বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না। সমিতির পক্ষ থেকে সব মালিক ও শ্রমিককে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়ে-এটি স্বাভাবিক। তবে ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে এমন একটি ফর্মুলা প্রয়োজন যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না। আজকের বৈঠকে সরকার এবং মালিকপক্ষ কোন অবস্থানে পৌঁছায় এবং ভাড়া কতটা বাড়ে, এখন সেটি দেখার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ। সবশেষে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে বিআরটিএ-কে মাঠ পর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা।