- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
টেস্টি ট্রিটের খাবারে বিষক্রিয়া: দিনাজপুরে অসুস্থ অর্ধশতাধিক, হাসপাতালে ভর্তি শিশু-নারী-পুরুষ
দিনাজপুর প্রতিনিধি ►দিনাজপুর শহরের একটি ফাস্টফুড দোকান ‘টেস্টি ট্রিট’-এর খাবার খেয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু, নারী ও পুরুষ অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শনিবার (২ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুন্নবী জানান, এ ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দোকানে অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় দিনাজপুর গাক চক্ষু হাসপাতালের সেমিনার অনুষ্ঠানে বড় মাঠ সংলগ্ন টেস্টি ট্রিটের শোরুম থেকে স্যান্ডউইচ, রোলসহ বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে এসব খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার গ্রহণের পরপরই সন্ধ্যার মধ্যে অনেকের বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্তদের মধ্যে ৯ জনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১৫ জনকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং ৫ জন শিশুকে অরবিন্দ শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে আরও অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এদের মধ্যে এক গর্ভবতী নারীসহ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। টেস্টি টেস্ট ফাস্টফুডের খাবার খেয়ে আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল ও অরবিন্দ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছেন। ডাঃ এস. এম. বরাত উল ইসলাম, ফারিহা নাজমিন, মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম, সুমন ইসলাম, হাবীবুর রহমান, রেশমা খাতুন, ঝর্না বেগম, ইতি মনি, খুরশীদ জাহান, রওশনা আরা, আতিকা ইয়াসমিন যথি, সোহায়ার্দী হোসেন রুবেল, নুর আলম, ফাতেমা খাতুন, হুসনে আরা, রুকনুজ্জামান সিহাব, দিলশাদ জাহান দিবা, শাহিদা, জীবন, রথিকা রানী, ভাস্কর, পলি, প্রান্ত, কৃষ্ণ রায়, আলবিনা বর্ষা, আয়শা, বানী রায়, রিপন, লুবান, লাবিব, জাহিদ, ইতি, মুরসালিন, রুবিনা, শিউলী, নুরনাহার, তামান্না, শাহিনা, রাব্বি, রবিউল, নাজিফা, ফাইয়াদ, আসফিয়া, তাওসি, আরাফাত ও আরিফা। এছাড়াও একই ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কর্মরত ডাঃ মোঃ আশিক আরমান খান, ডাঃ মোঃ মোহাসেনুল ইসলাম এবং নার্গিস আরা নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের একজন ডা. এস. এম. বরাত উল ইসলাম জানান, “খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। একাধিক স্যালাইন নিতে হয়েছে। আক্রান্ত দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি সুলতানা জানান, স্যান্ডউইচ ও রোল খাওয়ার পরপরই তাদের পেটে সমস্যা শুরু হয় এবং দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় টেস্টি ট্রিটের সেলসম্যান মেহেদী হাসান বলেন, “অভিযোগ ওঠা খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, অভিযানে দোকান থেকে কিছু নষ্ট খাবার জব্দ করা হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দূষিত বা পচা খাবারের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। দিনাজপুর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা গৌরব কুমার সাহা বলেন, “টেস্টি ট্রিটের স্যান্ডউইচ ও রোল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌস জানান, আক্রান্তদের অধিকাংশই এখন চিকিৎসাধীন এবং অনেকের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এটিকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।