- মাধুকর প্রতিনিধি
- ১ ঘন্টা আগে
তিস্তামুখঘাট—বাহাদুরাবাদ রুটে সেতু বা টানেল নিমার্ণের দাবি
ফুলছড়ি ও সাঘাটা প্রতিনিধি ►গাইবান্ধার ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট থেকে বাহাদুরাবাদঘাট পর্যন্ত সড়কসহ রেলসেতু বা টানেল নির্মাণ এবং বোনারপাড়া থেকে তিস্তামুখঘাট পর্যন্ত রেলপথ সংস্কার ও পুনরায় ট্রেন চালুর দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মানববন্ধন শেষে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। অরাজনৈতিক সে¦চ্ছাসেবী আঞ্চলিক গণসংগঠন সাঘাটা—ফুলছড়ি উন্নয়ন সংগঠনের ডাকে সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের উল্যাবাজার রেলগেটে বুধবার ৬ মে সকাল ১১ টায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের সভাপতি হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মানববন্ধনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক মাছুদুর রহমান প্রধান মাসুদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাঘাটা উপজেলা সভাপতি যজ্ঞেশ্বর বর্মন, বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন রক্ষা কমিটির সমন্বয়ক সহকারী অধ্যাপক শাহ্ আলম, সমাজসেবক রওশন হাবীব রোজ, অধ্যক্ষ নওয়াব আলী প্রধান সাজু, সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ, আজাদুল ইসলাম ও সোহরাব আলীসহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এসব দাবি জানান। ব্যানারে তিস্তামুখঘাট থেকে বাহাদুরাবাদঘাট পর্যন্ত সেতু বা টানেল নির্মাণ চাই এবং বোনারপাড়া থেকে তিস্তামুখঘাট পর্যন্ত পুণরায় ট্রেন চাই এমন নানা স্লোগান লেখা ছিল। মানববন্ধনে সভাপতি হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ বলেন, সরকার বর্তমানে তিস্তামুখঘাট—বাহাদুরাবাদ অথবা সারিয়াকান্দি—মাদারগঞ্জ অথবা বালাসীঘাট—বাহাদুরাবাদঘাট, এই তিনরুটে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। কেবলমাত্র তিস্তামুখঘাট—বাহাদুরাবাদঘাট রুটের দুরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। এটি প্রথম যমুনা সেতু নির্মাণের আগে অগ্রাধিকার—১ এ ছিল। বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আমলে এ রুটে সেতু নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এ রুটে উভয় তীরে দেড়—দুই কিলোমিটার নদী শাসন বা প্রয়োজনীয় জায়গা ফাঁকা রাখলে সড়কসহ মাত্র ২/৩ কিলোমিটার রেলসেতু বা টানেল নির্মাণ বর্তমান সরকারের আমলেই সম্ভব। এটি অপেক্ষাকৃত যুক্তিযুক্ত, স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন যোগ্য। এসময় বক্তারা দাবি করেন, বিকল্প রুটের মধ্যে অন্যতম বালাসীঘাট—বাহাদুরাবাদঘাট রুটের দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার, যা প্রায় উত্তর থেকে দক্ষিণ—পূর্বকোণে অবস্থিত। একই অবস্থা সারিয়াকান্দি—মাদারগঞ্জ রুটে। এর দুরত্ব ১২ কিলোমিটার, যা দক্ষিণ থেকে উত্তর—পূর্বকোণে অবস্থিত। অর্থাৎ ভাটি থেকে উজানে যাত্রা এবং একই সাথে অবৈজ্ঞানিকও বটে। কিন্তু ফুলছড়ি বাহাদুরাবাদ রুটটি সোজাসুজি পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী। এই দুই পথে এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি, দুরুত্বও বেশি। অতএব, অবহেলিত ও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট থেকে বাহাদুরাবাদঘাট পর্যন্ত রুটটি সার্বিক বিচারে কোন বিতর্ক ছাড়াই যুক্তিযুক্ত। এ অঞ্চলের মানুষ বহু বছর ধরে নৌ—পথ ও অনুন্নত সড়কের ওপর নির্ভর করে চলাচল করছেন, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাঘাটা—ফুলছড়ি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ। বক্তব্য দেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাঘাটা উপজেলা সভাপতি যজ্ঞেশ্বর বর্মন, বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন রক্ষা কমিটির সমন্বয়ক সহকারী অধ্যাপক শাহ আলম, সমাজসেবক রওশন হাবীব রোজ, অধ্যক্ষ নওয়াব আলী প্রধান সাজু, সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ, আজাদুল ইসলাম ও সোহরাব আলীসহ আরও অনেকে। বক্তারা আরও বলেন, তিস্তামুখঘাট—বাহাদুরাবাদ সংযোগ স্থাপিত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে, বাড়বে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে বোনারপাড়া—তিস্তামুখঘাট রেলপথ চালু হলে শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। ফলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি গতিশীল হবে বলে তারা মনে করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন, যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।