- মাধুকর প্রতিনিধি
- ২ মিনিট আগে
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন বদলি নীতিমালা জারি
অনলাইন ডেস্ক►
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত) জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান সই করা নীতিমালায় বলা হয়, সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ নীতিমালা জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
বদলির সাধারণ শর্তাবলি:
নীতিমালায় বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের চাহিদা/বিবরণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে। প্রকাশিত শূন্য পদের বিপরীতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষকদের আবেদন আহ্বান করবে। সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান/সহকারী প্রধান/একই বিষয়ের শিক্ষক সমপদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন।
নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবে। এছাড়াও আবেদনকারী শিক্ষক স্বামী/স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল জেলায় (সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) বদলির আবেদন করতে পারবে। প্রথম যোগদানের পর চাকরি দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিন বার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবে। শিক্ষক বলতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধান/সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান/প্রদর্শক/ট্রেড ইন্সট্রাক্টরসহ সকল শিক্ষককে বুঝাবে।
অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হবে:
নীতিমালা অনুযায়ী, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল জেলা (সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান)। চাকরির জ্যেষ্ঠতা সর্বশেষ জারিকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী গণনা করা হবে। একটি পদের জন্য প্রতিযোগী সকল আবেদনকারীর কর্মস্থল একই উপজেলায় হলে তাদের বর্তমান কর্মস্থল যে উপজেলায় সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত উপজেলার কেন্দ্র-এর দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারী বিভিন্ন উপজেলার হলে তাদের কর্মস্থল যে উপজেলায় সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারীর কর্মস্থল বিভিন্ন জেলায় হলে তাদের স্ব-স্ব জেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে। দূরত্ব পরিমাপের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-এর অনুসৃত মডেল অনুসরণ করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য সংবলিত আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে না। ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য প্রদান প্রমাণিত হলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রমের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ০২ (দুই) জন শিক্ষক অগ্রাধিকারভিত্তিতে [নারী ও জ্যেষ্ঠতা] বদলির সুযোগ পাবেন। তবে এক বিষয়ে একজনের অধিক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) আবেদনকারী শিক্ষক বদলির আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। সরকার জনস্বার্থে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি করতে পারবে।
বদলির কর্তৃপক্ষ:
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কর্তৃক বদলির আবেদন নিষ্পত্তি হবে।
আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া:
নীতিমালায় বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুমোদনক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সফটওয়্যার তৈরি ও অনলাইন আবেদনের ফরম্যাট নির্ধারণ করবে।বদলিকৃত শিক্ষক ইনডেক্স পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ট্রান্সফার হবে। পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বদলি/পদায়ন এর বিষয়টি নিষ্পন্ন করতে পারবেন। বদলিকৃত শিক্ষক এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
বিবিধ:
নীতিমালা অনুযায়ী, বদলির আবেদনের ভিত্তিতে বদলি অধিকার হিসাবে দাবি করা যাবে না। বদলিকৃত শিক্ষক কোনো ধরনের টিএ/ডিএ প্রাপ্য পাবেন না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বদলিকৃত শিক্ষক অবমুক্তি নিশ্চিত করবেন। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান যোগদানের তথ্য চেয়ারম্যান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অনলাইনে অবহিত করবেন। অবমুক্তি হতে যোগদান পর্যন্ত দিবসগুলো কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। কোনো শিক্ষকের বিষয়ে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য হবেন না।
রহিতকরণ:
এ নীতিমালা জারি হওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক এ সংক্রান্ত বিষয়ে ইতোপূর্বে জারিকৃত নীতিমালা/পরিপত্র রহিত করা হলো। মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে এ নীতিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও এ নীতিমালার বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।