- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
ডিজাইনার ও কোডাররা অকারণে শঙ্কায় ভুগছেন
অনলাইন ডেস্ক ►
মিনিটের ব্যবধানে এখন ডিজাইন তৈরি বা কোড জেনারেট করা সম্ভব। অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, এআই কি মানুষের সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে আদতে প্রতিস্থাপন করতে পারবে? সদুত্তর– অবশ্যই না। তাহলে সংশয় কী নিয়ে, তারই খোঁজ করেছেন গবেষকরা।
চ্যাটজিপিটি ও মিডজার্নির মতো এআই টুল মানুষের সৃজনশীল কাজের ধরন সমূলে বদলে দিয়েছে। গবেষণা বলছে, এআইকে প্রতিস্থাপনের চেয়ে বরং একে গতি সঞ্চালক (অ্যাকসেলারেটর) হিসেবে দেখাই শ্রেয়। অর্থাৎ কোনো কাজ দ্রুত করে দিতে, তা প্ল্যানিং করতে বা চটজলদি কোনো বিষয় নিয়ে আইডিয়া করতে এআই দক্ষতা দেখাবে। একগুঁয়ে সব ধরনের কাজকে দ্রুত সেরে ফেলতে পারে।
জানা গেছে, যারা লেখালেখি নিয়ে মগ্ন, তাদের মধ্যে অনেক লেখক রাইটার্স ব্লক থেকে বেরিয়ে আসতে এখন কৃত্রিম মেধার ওপর নির্ভর করছেন। দ্রুত প্রাথমিক কনসেপ্ট তৈরি করছেন ডিজাইনাররা। তার ভিত্তিতে অনেকে চূড়ান্ত ডিজাইন তৈরি করছেন। দ্রুত ডিবাগিং করছেন কোডাররা। এর কিছু বাস্তব সমস্যা সামনে এসেছে। অনেকে এআই প্রযুক্তির ওপর চূড়ান্ত নির্ভর করছেন। এতে কনটেন্ট হয়ে যাচ্ছে সাধারণ; নীরবে হারাচ্ছে মৌলিকত্বের শর্ত।
অন্যদিকে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে, বিশেষ করে এন্ট্রি-লেভেল কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, সাধারণ মানের যে কোনো কাজ এখন এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করা সহজ হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে নির্ভুল তথ্যপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা। অনেক ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে এআই, যা পেশাগত কাজে ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
সমাধানে কী রয়েছে
আক্ষরিক অর্থে এআইকে সহযোগী টুল হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। একে কোনোভাবেই চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
লেখকরা চাইলে এআই দিয়ে সহজেই শব্দের কাঠামো তৈরি করতেই পারেন। কিন্তু সেখানে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তিগত শব্দচয়নের মনস্তত্ত্ব থাকতে হবে। কনটেন্টের পুরোটাই এআই নির্ভর হলে মৌলিকত্ব নষ্ট হবে। অনেকের ধারণা, এআই কি কোনো কথাসাহিত্যিক বা গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড’ লেখার সক্ষমতা কোনোদিন দেখাতে পারবে।
ডিজাইনাররা নতুন ধারণা ও অনুপ্রাণিত হওয়ার জন্য এর ব্যবহার করছেন। চূড়ান্ত নকশায় সৃজনশীল ছোঁয়া কিন্তু থাকতে হবে মানুষেরই।
কোডাররা সাধারণ কাজ অটোমেট করতে পারেন। কিন্তু লজিক ও প্রবলেম-সলভিং করার ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই নিজস্ব দক্ষতা থাকতে হবে। গবেষকরা বলছেন, সৃজনশীল কাজের অনুকরণ করতে পারে এআই। কিন্তু শেষমেশ মানুষের অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীল ধারণাকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।
ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম মেধা কখনোই মানুষের বিকল্প হিসেবে প্রতিস্থাপন হবে না। উল্টো মানুষ ও এআই– এ দুয়ের সমন্বয় ও যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হবে অভূতপূর্ব বাস্তবতা। যারা এআইকে ভাবনার সারথি করে কাজ করতে শিখবে, ভবিষ্যতে তারাই এগিয়ে থাকবে।