• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

কালবৈশাখী ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ ছয় ইউনিয়ন লণ্ডভণ্ড



সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►

কালবৈশাখী ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ পাঁচটি ইউনিয়ন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের আঘাতে খুঁটি ভেঙে পড়ে তার ছিঁড়ে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং সহস্রাধিক গাছপালা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

গত রোববার রাতে উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, সোনারায়, বামনডাঙ্গা, বেলকা ইউনিয়নসহ সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে করে শিবরাম স্কুল এন্ড কলেজ, সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খামার পাঁচগাছি দাখিল মাদ্রাসা, বেলকা মজিদপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষা  ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গাছ উপড়ে পড়ে বা টিনের চাল উড়ে গিয়ে মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের ৩৫ বছরের পুরাতন বটগাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ পাঁচটি কক্ষ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে করে বিদ্যালয়ের ল্যাপটবসহ যাবতীয় ফাইলপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। সেই সাথে বিদ্যালয় সংলগ্ন ৩টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায়। রাত থেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক ক.জ.ম হাবিবা বেগম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে অল্পের জন্য তাঁর নৈশ প্রহরী প্রাণে বেঁচে গেছে। সেই সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক মিলনায়তন, করনিকের কক্ষসহ পাঁটি কক্ষের আলমিরা, র‌্যাক, টেবিল চেয়ার, ল্যাপটবসহ যাবতীয় ফাইলপত্র ভিজে নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেছে। এই ক্ষতি পুরন হওযার মত নয়। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। 

দহবন্দ ইউনিয়নের সৈয়দ বাড়ির মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঐতিহ্যবাহি সৈয়দ বাড়িতে কমপক্ষে ১০ হতে ১৫টি বড় বড় গাছ ছিল। ঝড়ে সেইসব গাছ উপড়ে পড়েছে এবং ডালপালা ভেঙে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে গেছে। দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল ইসলাম সরকার রেজা বলেন, তাঁর ইউনিয়নে শতাধিক বসতঘর, দোকানপাট এবং পাঁচ শতাধিক গাছপালা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হচ্ছে। 
উপজেলা বন বিভাগসূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ গাছ পালার তালিকা করা সম্ভাব হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় তালিকা করা হচ্ছে। উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আব্দুল বারী বলেন, ঝড়ে ১২টি খঁটি ভেঙে পড়েছে, ১০টির মত খুঁটি হেলে গেছে। সেই সাথে ৩০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। সকাল থেকে ২১টি টিম কাজ করছেন। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভাব হবে 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, চেয়ারম্যানগণকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে দ্রুত অফিসে জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পৌরসভার সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেই সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঈদে আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই ক্ষতি অত্যন্ত দুঃখজনক।