• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

মাংস কাটার খাইট্টা তৈরিতে ব্যস্ত ছ-মিলের শ্রমিকরা



নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গাইবান্ধার বিভিন্ন স-মিলে এখন দম ফেলার সময় নেই শ্রমিকদের। ব্যস্ততা মূলত একটি বিশেষ অনুষঙ্গকে ঘিরে-আর তা হলো তেঁতুল কাঠের খাইট্টা বা মাংস কাটার গুঁড়ি। তবে এই বাণিজ্যিক চাহিদার আড়ালে লুকিয়ে আছে পরিবেশের বড় ধরনের এক বিপর্যয়। প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নির্বিচারে কাটা পড়ছে হাজার হাজার তেঁতুল গাছ।

সরেজমিনে গাইবান্ধার বিভিন্ন স-মিল ঘুরে দেখা যায়, দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে ট্রাকে করে আনা হচ্ছে বড় বড় তেঁতুল গাছ। সেগুলো কেটে গোল গোল টুকরো করে সারি বেঁধে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। কাঠ ব্যবসায়ীদের দাবি, মাংস কাটার জন্য তেঁতুল কাঠের কোনো বিকল্প নেই। শহরের কাঠপট্টির ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ জানান, তেঁতুল কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই। ভারী দা বা কুড়ালের আঘাতেও এই কাঠ সহজে ফেটে যায় না বা মাংসে কাঠের গুঁড়ো মেশে না। তাই কোরবানির জন্য এর কদর সব সময়ই বেশি। তিনি আরও জানান, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে গাইবান্ধার এসব কাঠের গুঁড়ি এখন ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন বড় শহরেও পাঠানো হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ, আগের তুলনায় গ্রামে এখন তেঁতুল গাছের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে, গাছ খুঁজে পেতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তবে এই সাময়িক বাণিজ্যিক লাভের পেছনের অন্ধকার দিকটি নিয়ে শঙ্কিত পরিবেশবিদ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা। গাইবান্ধার এসকেএস ফাউন্ডেশনের টেকনিক্যাল অফিসার ও কৃষিবিদ অনন্যা সরকার জানান, তেঁতুল গাছ পরিবেশের পরম বন্ধু। এটি প্রচুর পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মাটির ক্ষয়রোধ করে। এভাবে নির্বিচারে বড় বড় গাছ কেটে ফেলায় জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এ ব্যাপারে বন বিভাগের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, এটি পরিবেশ ও মানুষের জন্য বড় হুমকি। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, এসব গাছ রক্ষা বা সামাজিক বনায়নের আওতায় সচেতনতা তৈরির মতো কোনো বিশেষ প্রকল্প বা সরকারি বাজেট তাদের নেই। 

প্রতি বছর দেশে প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি দেওয়া হয়। মাংস কাটার জন্য প্রতিবারই প্রয়োজন হয় লাখ লাখ কাঠের গুঁড়ি। পরিবেশবাদীদের মতে, উৎসবের আমেজ ঠিক রাখতে গিয়ে পরিবেশের এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা মনে করেন, তেঁতুল কাঠের বিকল্প হিসেবে টেকসই অন্য কোনো আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।