• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

গাইবান্ধার খামার ফ্রেন্ডস ক্যাটলে ৫০০ টাকা কেজি দরে লাইফ ওজনে গরু বিক্রি



নিজস্ব প্রতিবেদক ►

গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারগুলোতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, মহিষ ও ছাগলসহ অন্যান্য কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা পশুগুলোকে বাজারজাত করতে প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও কৃষকরা। হাটে এখন জমজমাট বেচাকেনা শুরু হলেও ক্রেতাদের একটি বড় অংশ এবার সরাসরি খামারমুখী হচ্ছেন। হাটের ভিড়, দালালদের উৎপাত, অতিরিক্ত হাসিল, সময় ব্যায়সহ নানা ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই খামার বা কৃষক থেকে সরাসরি ক্রয় করছেন কোরবানির গরু। এরমধ্যে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মেসার্স ফ্রেন্ডস ক্যাটল নামের জেলার সব চেয়ে বড় খামারে। এখানে ৫০০ টাকা কেজি দরে ওজনে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির গরু।

খামারে পশু ক্রেতাদের মতে, খামারে গিয়ে গরু কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় নিয়ে পছন্দমতো পশু দেখে যাচাই-বাছাই করা যায়, হাটের মতো ভিড় বা চাপ নেই। খামারে প্রকাশ্যে দাম কিছুটা বেশি হলেও দরদাম নিয়ে বিভ্রান্তি কম এবং পশু কিনে ঠকার আশঙ্কা একেবারেই নেই। ঝামেলামুক্ত কেনাকাটার জন্য তারা এই পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

খামারিরা জানান, এ বছর পশুখাদ্য, ওষুধ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, ঝামেলাহীন ও স্বচ্ছতা থাকায় হাটের তুলনায় খামারভিত্তিক পছন্দের কোরবানির পশু ক্রয়ের প্রবণতা বেড়েছে। ক্রেতারা বড় গরুর তুলনায় মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি বলেও জানান তারা। জেলার খামারগুলোতে দেশি, শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন সংকর জাতের গরু লালন-পালন করা হয়েছে।

সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের গাইবান্ধা-সাঘাটা রোডের ইন্দ্রারপাড় এলাকায় জেলার সব চেয়ে বড় খামার ফ্রেন্ডস ক্যাটলে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারের মালিক-কর্মচারিরা। বড় বড় চুলায় রান্না হচ্ছে গরুকে খাওয়ানোর জন্য আলু। কেউ পশুর খাবার রান্না করছেন, কেউ মেশিনে ঘাস ও খর কাটছেন। কেউ খামার ও পশুর পরিচ্ছন্নতায় বৈদ্যুতিক মটরের পানিতে গরুগুলোকে গোসল করাচ্ছেন। এসবের পরে খাওয়ানো হয় ভুসি, ভুট্টা ভাঙা, সিদ্ধআলু, খর ও কাঁচাঘাসসহ প্রাকৃতিক খাবার।

খামরের মালিক জুয়েল জানান, এ বছর তার খামারে ১৩০টি ষাঁড় সম্পূর্ণ দেশীয় খাবারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু গরু বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে ৫৩০ টাকা কেজি দরে গরু বিক্রি হলেও বর্তমানে ৫০০ টাকা কেজি দরে লাইফ ওজনে গরু বিক্রি হচ্ছে। মাত্রই একটি ২৮৪ কেজি ওজনের দেশি গরু বিক্রি হলো, মূল্য হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রতি ১০০ কেজিতে ৫৫ কেজি মাংস পাওয়া যায় বলেও জানান খামারি জুয়েল। গরু কিনতে আসা স্থানীয় ব্যবসায়ী ছাইদার রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত এখানে গরু কেনা-বেচা করে থাকি। এখান থেকে গরু ক্রয় করে জেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করে থাকি। আজ ছয়টি দেশি জাতের গরু ক্রয় করেছি। ভরতখালির হাটে বিক্রি করবো।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হাটের পাশাপাশি অনেক গরুর খামার ও গৃহস্থ কৃষকের বাড়ি থেকে বিক্রি হচ্ছে। ওইসব খামারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে খোঁজ খবরসহ পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। প্রত্যেক খামারিকে প্রাকৃতিক খাদ্যে গরু মোটাতাজা করণে উৎসাহিত করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় এ বছর স্থায়ী ১৯টি এবং অস্থায়ী ১৩টিসহ মোট ৩২টি স্থানে বসছে হাট। জেলায় খামার ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রস্তত করা হয়েছে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্যসহ প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৩টি প্রাণী। এর বিপরীতে চাহিদা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ এবং উদ্বৃত্ত ৩৯ হাজার ৮২৬টি প্রাণী।
মাধুকর/এমআর