• মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে

এসকেএস কোরবানির মাংস দিয়ে অভাব পূরর্ণ করেছে



ভবতোষ রায় মনা ►

হামরা গরীব মানুষ, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। বছরে একবার মাংস কিনে খাওয়ার অর্থও নেই। লজ্জায় কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারি না। এসকেএস কোরবানির মাংস দিয়ে অভাব পূরর্ণ করেছে ঈদের পরে দিন। তাদের দেওয়া ২ কেজি কোরবানির মাংস রান্না করে ছোলপোল নিয়্যা আনন্দ করি খামো। তাদের জন্য দোয়া করি প্রতিবছর যেন এভাবেই গরীব দুখী মানুষের মাঝে মাংস পৌঁছে দেন। এভাবেই বাচ্চা কোলে কথাগুলো বলছিলেন সাঘাটা উপজেলার কচুয়া গ্রামের ফেন্সি বেগম। 
শুধু ফেন্সি বেগম নয়, এরকম শত শত নারী-পুরুষ আজ শুক্রবার (২৯ মে) ভরতখালী রিসোর্ট সেন্টার মাঠে বিতরণকৃত মাংস পেয়ে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চোখের জল ফেলে দোয়া করেন। অনেকেই বলেছেন, নিজেরা কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য হারিয়ে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে থাকেন। অন্যের দেওয়া মাংস রান্না করে খাওয়ার সময় তাদের কণ্ঠে হতাশার সুরও বেজে ওঠে, কারণ তারা নিজেদের পরিশ্রমে ঈদের খুশি উপভোগ করতে পারেন না। আর সেই খুশি প্রতিবছর জোগাচ্ছে এসকেএস।

গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বন্যা ও নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকার ৪ হাজার ২০০টি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে। সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী, সাঘাটা, মুক্তিনগর, জুমারবাড়ী ও কামালেরপাড়া ইউনিয়ন এবং ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, ফুলছড়ি, উড়িয়া ও উদাখালী মোট ৯টি ইউনিয়নে সুবিধাভোগীরা এই কর্মসূচির আওতায় পড়েন। ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ’র সহায়তায় এসকেএস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ আয়োজন হয়।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনটি কেন্দ্র সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের ভরতখালীতে এসকেএস রিসোর্স সেন্টার, জুমারবাড়ী ইউনিয়নে জিকেএস-এর অফিস প্রাঙ্গণ এবং ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের বুড়াইল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ থেকে প্রতিটি পরিবারকে দুই কেজি করে গরুর মাংস প্রদান করা হয়। এবার ১২০টি গরু কোরবানি দেওয়া হয়। এছাড়াও কোরবানির পশুর চামড়া স্থানীয় ৫টি মাদ্রাসাকে দান করা হয়েছে।

গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজার রহমান বলেন, নদী ভাঙনের কারণে এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ এখন গরিব হয়ে গেছে। যাদের কোরবানি দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। এসব দুস্থ-গরিব মানুষের মাংস কিনে খাওয়া স্বপ্নের মতো। ঈদের পরের দিন কোরবানির মাংস দিয়েছে এসকেএস। সেটুকু রান্না করে পরিবারের সবাই খেয়েছেন।

জুমারবাড়ী ইউনিয়নে জিকেএস-এর অফিস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিএকএস এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের বুড়াইল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুড়াইল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহীম আকন্দ সেলিম।

ভরতখালী এসকেএস রিসোর্স সেন্টারে মাংস বিতরণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহকারী প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আহসান হাবীব, এসকেএস ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসের উপ-পরিচালক খন্দকার জাহিদ সরোওয়ার, এসকেএস এন্টারপ্রাইজ হেড অব আবু সাঈদ সুমন ও এসকেএস রিসোর্স সেন্টারের ম্যানেজার মিজানুর রহমান আকন্দ প্রমূখ।

এ প্রসঙ্গে এসকেএস ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসের উপ-পরিচালক খন্দকার জাহিদ সরোওয়ার বলেন, চরাঞ্চল ও নদীভাঙনকবলিত এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবার প্রথমবারের মতো তিনটি পৃথক কেন্দ্র থেকে মাংস বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়।

এ ব্যাপারে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহকারী প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আহসান হাবীব বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও সুবিধা বঞ্চিত ও দরিদ্র ৪ হাজার ২শ হপরিবারের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। এই মাংস বিতরণ কার্যক্রম শুধু একটি বিতরণ কার্যক্রম নয়, বরং যে সকল পরিবার সারাবছর মাংস খেতে পারে না, তাদের পারিবারিক পুষ্টি যোগাতেও সাহায্য করবে। এই কার্যক্রম আমরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা ও এসব পরিবারের সামগ্রিক উন্নয়নে আরও কী করা যায় সে বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি।
মাধুকর/এমআর