• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

ইরান চুক্তি না মানলে যা দরকার তাই করব: ট্রাম্প



অনলাইন ডেস্ক ►
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা নতুন চুক্তির শর্ত মেনে না চলে, তাহলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি না মানলে বা তারা সঠিকভাবে আচরণ না করলে যা করার দরকার আমি তাই করব। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এই চুক্তির আগে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটে। তিন মাসেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা করে। ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থানেও হামলা চালায়।

এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার ট্রাম্প আরো বলেন, ইরানের যে জব্দকৃত অর্থ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তা মূলত খাদ্য কেনার কাজে ব্যবহার করার কথা। তার দাবি, এই অর্থ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের জন্যও লাভজনক হবে। তিনি বলেন, তাদের খাদ্যের খুব প্রয়োজন। ইরানের জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ।

তারা নিজেদের জনগণের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করতে পারছে না। তাই আমরা যে অর্থ ছাড় দিচ্ছি, তার বড় অংশ শেষ পর্যন্ত আমাদের কৃষকদের কাছেই যাবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলার ফলে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

এসব সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া লাখো মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অঞ্চলের উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। তবে চুক্তির শর্ত মানা এবং পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা এখন দুই দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।