• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট পুনরায় উৎপাদন শুরু



অনলাইন ডেস্ক ►
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট ২৯ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। জেলা বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে এই তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন।

প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর ইউনিটটি চালু হওয়ায় আজ বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে। গতকাল, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় বড়পুকুরিয়া কয়লাভিক্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট ২৯ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ট্রায়েল ভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজ দুপুর থেকে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে, দুপুর আড়াইটা থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করা হয়।

বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিট দুটি চালু রয়েছে। সূত্রটি জানায়, ১ নম্বর ইউনিট থেকে বর্তমানে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, নতুন করে চালু হওয়া ৩ নম্বর ইউনিট থেকে প্রাথমিক ভাবে প্রায় ১৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পর্যায় ক্রমে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনায় কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক আরো বলেন, ‘একটি ইউনিট চালু হয়ে আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওই ইউনিটটি পূনরায় চালু হওয়ায় পর, ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এখন তৃতীয় ইউনিটটি আজ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সচল করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি অনেক বেশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।’

সূত্রটি জানায়, ২০১৭ সালে স্থাপিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিটটি দীর্ঘদিন সচল থাকার পর, ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন কারিগরি ও জ্বালানি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পর অবশেষে ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফিরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানান, কোল ইয়ার্ড সংক্রান্ত বিদ্যমান সমস্যার দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উৎপাদিত কয়লা অন্যত্র সংরক্ষণের চিন্তা-ভাবনার পাশাপাশি খোলা বাজারে কিছু কয়লা বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া নিকটস্থ প্ল্যান্টে আরেকটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। এতে কয়লার ব্যবহার বেড়ে যাবে।

কর্তৃপক্ষের আশা, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কয়লার ব্যবহার বাড়ার ফলে বড়পুকুরিয়া প্রকল্পের কার্যক্রম আরও স্থিতিশীল হবে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা করছেন।