• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

হামে বাড়ছে মৃত্যু, নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো শঙ্কা



অনলাইন ডেস্ক ►
দেশে হামের সংক্রমণ কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের গতি কিছুটা কমলেও শঙ্কা কাটেনি। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৮৬০ শিশু। এর মধ্যে ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন ময়মনসিংহে এবং একজন করে ঢাকা ও খুলনায় মারা যায়।

একই সময় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ শিশু। এদের মধ্যে ৪৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৮ হাজার ২৬৬ শিশুর এবং পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের। এর মধ্যে ৭৮ হাজার ২৮৭ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ২২ হাজার ৪৪২ শিশু, যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ১৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুনের প্রথম ৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছিল ১০ হাজার ১৪৮ জন। শেষের ৯ দিনে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৩৬২ জন। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৭.৬ শতাংশ কমেছে। তবে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, মাঠ পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে পাঠানো কেস রিপোর্ট ফরমের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে হামের প্রকোপ কমছে এবং পরিস্থিতি উন্নতির দিকে।

ঝুঁকি থাকার শঙ্কা : বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ কমার প্রবণতা ইতিবাচক হলেও টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, নির্ভুল নজরদারি এবং দ্রুত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা জোরদার না করলে হামের প্রকোপ আবার বাড়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, মৃত্যুহার কমার পেছনে টিকাদানের ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। তবে ৯৫ শতাংশ কার্যকর টিকাদান কাভারেজ বাস্তবে অর্জিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাঁর মতে, দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় টিকাদানের ঘাটতি এবং রোগ নজরদারির দুর্বলতার কারণে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরকার শতভাগের বেশি টিকা কাভারেজের দাবি করলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লক্ষ্যভুক্ত সব শিশু টিকার আওতায় আসেনি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, টিকাবঞ্চিত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আলাদা রাখার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদের মতে, হামের সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া। পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল, মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ (ডেথ রিভিউ) এবং শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।