• মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২২ ঘন্টা আগে

ম্যারাডোনা গেলেন যে পথে, মেসিও গেলেন সে পথে



অনলাইন ডেস্ক ►
শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা যে ক’জন ফুটবলার রয়েছেন- তাদের সেরা ৫ জনের তালিকায় নাম থাকবে দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির। কেউ কেউ তো তাদেরকে শীর্ষ দুটি স্থানেই রাখেন।

শীর্ষস্থানে থাকারই যোগ্য তারা। ক্যারিয়ারজুড়ে যে ফুটবল তারা উপহার দিয়েছেন, তার কোনো তুলনা চলে না। যদিও এরই মধ্যে দুনিয়া ছেড়ে পরলোকে পাড়ি জমিয়েছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং এখনও বিশ্বব্যাপি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্পন্দন তুলে খেলে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি।

স্পেনের বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার এই দুই তারকার মধ্যে একটি অদ্ভূত মিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দিয়েগো ম্যারাডোনা যে পথে হেঁটেছেন, সেই একই পথে হেঁটেছেন লিওনেল মেসিও। এক বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর আরেক বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও রানারআপ হলেন দু’জনই।

কিভাবে? ১৯৮৬ বিশ্বকাপে একক নৈপূন্য দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। কোয়ার্টার ফাইনালে তার দুটি পারফরম্যান্স (হাত দিয়ে করা গোল ও গোল অব দ্য সেঞ্চুরি) এরই মধ্যে কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার আর্টিকেল লেখা হয়েছে এ নিয়ে।

শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই অসাধারণ পারফরম্যান্সই নয়, সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন তিনি। এরপর ফাইনালে দুর্দান্ত খেলে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে হলেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

এরপর ১৯৯০ বিশ্বকাপেও অসাধারণ খেলেছে আর্জেন্টিনা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালেও তুলে আনেন ম্যারাডোনা। এরপর ফাইনালে গিয়ে কিছুই করতে পারলো না আর্জেন্টাইনরা। পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারায় তারা।

দিয়েগো ম্যারাডোনার এই অবস্থা ছুঁলো লিওনেল মেসিকেও। ২০২২ বিশ্বকাপে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে বিশ্বকাপ জয় করান লিওনেল মেসি। সেই মেসি এবারও বলা যায় একক প্রচেষ্টায় দলকে ফাইনালে তুলে আনলেন। কিন্তু স্পেনের অসাধারণ ফুটবলের কাছে স্রেফ দর্শকে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত হারলেন ১-০ গোলে। ঠিক ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার মত।

এই পরাজয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয় আর সম্ভব হলো না আর্জেন্টিনার। সে সঙ্গে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার দুর্ভাগ্যকেই বরণ করে নিতে হয়েছে মেসির আর্জেন্টিনাকে।

তবে, মেসি এবং ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে একটা অমিল রয়েছে। ম্যারাডোনা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ৫ গোল করলেও ১৯৯০ বিশ্বকাপে একটি গোলও করতে পারেননি। অন্যদিকে মেসি আগের বিশ্বকাপে (২০২২ সালে) ৭ গোলের পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে করলেন ৮ গোল।