- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
গভীর পুকুর খননে ধসে যাচ্ছে সরকারি রাস্তা ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
আসলাম খান, কাউনিয়া ►
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় সরকারি রাস্তার কোল ঘেঁষে নিয়মবহির্ভূতভাবে গভীর পুকুর খনন করে মাটি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পুকুর খননের ফলে রাস্তার দুই ধারে ধস নেমে তা বিলীন হতে বসেছে। এতে চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় শত শত পথচারী। উপজেলার ৩ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চান্দঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব চান্দঘাট গ্রামের বাসিন্দা মতিয়ার রহমান সরকারি রাস্তার সীমানা ঘেঁষে কোনো ধরনের সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একটি পুকুর গভীরভাবে খনন করেন। পরে পুকুর থেকে তোলা মাটির পুরোটাই স্থানীয় একটি ইটভাটায় বিক্রি করে দেন তিনি। পুকুরের গভীরতা বেশি হওয়ায় এবং রাস্তার একদম পাশ থেকে মাটি তোলায় কিছুদিন যেতে না যেতেই পাড় ভেঙে পড়তে শুরু করে। ইতোমধ্যে রাস্তার একাধিক স্থানে ধস নেমে একাংশ পুকুরে তলিয়ে গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ চলাচল করেন। বর্তমানে রাস্তাটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, বিশেষ করে রাতের বেলা ও বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আইন অনুযায়ী সরকারি রাস্তার কত মিটার দূরত্ব বজায় রেখে পুকুর খনন করতে হয়—তা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন তারা। পাশাপাশি অনতিবিলম্বে ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ধসে যাওয়া সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
তবে পুকুরটির মালিক মতিয়ার রহমান মাটি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার না করলেও রাস্তার সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। অন্যদিকে, ৩ নম্বর কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং রাস্তার ক্ষতি রোধে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।এখন স্থানীয়দের নজর উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির দিকে—ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি রক্ষায় তারা কত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।