• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

ফুলছড়ি হাটে জীবনের ঝুঁকি: ঘরে ফেরার পথে নৌ-ডাকাতের আতঙ্ক



ভবতোষ রায় মনা

গাইবান্ধার প্রত্যন্ত নদীবেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভরসা ঐতিহ্যবাহী ‘ফুলছড়ি হাট’। তবে হাট শেষে কষ্টার্জিত অর্থ ও মালামাল নিয়ে নৌপথে বাড়ি ফেরা যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার বুকে অস্ত্রধারী নৌ-ডাকাতদের লাগাতার হানায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন চরের প্রান্তিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আতঙ্কে এখন নদীপথে চলাচলকারী হাজারো চরাঞ্চলবাসীর জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

চারপাশে অথৈ নদী আর মাঝে জেগে ওঠা দুর্গম বালুচর-এসব চরাঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ফুলছড়ি হাট। সপ্তাহের নির্দিষ্ট শনি ও মঙ্গলবার হাটে চরের কৃষকেরা তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসল আর গবাদি পশু বিক্রি করতে আসেন এই হাটে। কিন্তু বেচাকেনা শেষে ঘরে ফেরার পথেই তাদের জন্য ওত পেতে থাকে ভয়াল দুঃস্বপ্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীপথে প্রশাসনের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি না থাকার সুযোগ নিচ্ছে সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাত চক্র। সন্ধ্যার আঁধার নামতেই চরের নির্জন বাঁকে দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে সাধারণ যাত্রীবাহী নৌকার ওপর চড়াও হয় তারা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটে নেয় নগদ টাকা, মুঠোফোনসহ হাটের প্রয়োজনীয় সদাইপাতি। বাধা দিলে যাত্রীদের ওপর চালানো হয় নির্মম শারীরিক নির্যাতন।

ভুক্তভোগী এক কৃষক ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সারা বছর কষ্ট করে একটা গরু পালি। হাটে বিক্রি করে সেই টাকা নিয়া নৌকায় বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতরা সব কাইড়া নেয়। বাধা দিলে কুপিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। জানের ভয়ে আমরা কোনো প্রতিবাদও করতে পারি না।

ঘাট এলাকার মাঝি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর ঘাট থেকে ট্রলার ছাড়তেই বুক কেঁপে ওঠে। তারা বলেন, বিশেষ করে হাটের দিনগুলোতে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নৌ-পুলিশের টহল থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষ একসময় হাটে আসাই বন্ধ করে দেবে।

চরের দুর্গম জলপথে পুলিশের নজরদারি অপ্রতুল হওয়ায় দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে ডাকাত চক্র। চরের কৃষকদের রক্ত-ঘামের উপার্জন রক্ষা এবং নদীপথে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফুলছড়ির নৌ-রুটগুলোতে অবিলম্বে স্থায়ী নৌ-পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন ও বিশেষ টহল জোরদারের জোর দাবি জানিয়েছেন চরাঞ্চলবাসী।

এ প্রসঙ্গে ফুলছড়ি থানার ওসি মো: এসরাকুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চল ও আশপাশের লোকজন তাদের পণ্য হাটে বিক্রি করে নিবিঘ্নে বাড়িতে ফিরতে পারে সেই দিকে নজর রেখে টহল ব্যবস্থা জোরদার করেছি। পাশাপাশি নৌপথে ডাকাতি রোধকল্পে আমরা নৌপুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এটা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেছি। যাতে এই এলাকায় লোকজন নিবিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং চরের ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিবিঘ্নে ভয়ভীতি ছাড়ায় করতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করবো।