• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ



অনলাইন ডেস্ক ►
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই সময়ের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যাবে। কানাডার সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে। আইএমএফএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী চার বছরে বিশ্ব অর্থনীতির আকার আরো বড় হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসবে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো থেকে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক--এর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন, দেশটির জিডিপি হতে পারে ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকবে জার্মানি, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির সম্মিলিত অর্থনীতি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়তে পারে। এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে চীনের। তবে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দৌড়ে জার্মানির সঙ্গে ভারতের ব্যবধান খুব সামান্য। ২০৩০ সালে জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। অর্থাৎ দুই দেশের ব্যবধান মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নামমাত্র জিডিপির হিসাবে ভারত জার্মানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী হিসাব করলে ভারত ইতিমধ্যে জার্মানির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড় অর্থনীতি।

এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি বাড়বে 
২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ৫৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি হবে বৈশ্বিক অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশের বেশি। চীন ও ভারতের পর এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে জাপান। দেশটির জিডিপি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এরপর থাকবে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। দেশ দুটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ও ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। একসময় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ছিল জাপান। তবে কয়েক দশক ধরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে। ২০১০ সালে জাপানকে ছাড়িয়ে যায় চীন। এরপর ২০২৪ সালে জার্মানিও জাপানকে ছাড়িয়ে যায়।

ইউরোপে থাকবে তুলনামূলক ভারসাম্য
২০৩০ সালে ইউরোপের সম্মিলিত অর্থনীতির আকার ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থাকবে ইউরোপের দখলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত নামমাত্র জিডিপি ২৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হবে জার্মানি। এরপর থাকবে ফ্রান্স ও ইতালি। দেশ তিনটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২, ৪ ও ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

ইইউর বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে থাকবে যুক্তরাজ্য। ২০৩০ সালে দেশটির জিডিপি ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। এরপর থাকবে রাশিয়া, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রাশিয়া হবে এমন কয়েকটি দেশের একটি, যাদের অর্থনীতি এ সময়ে সংকোচনের মুখে পড়তে পারে।