• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

সাহেবগঞ্জ ফার্মে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলন মেলা



গোপাল মোহন্ত ►
গোবিন্দগেঞ্জ কারো জন্মস্থান, কারো কর্মস্থল, আবারো কারো বেড়ে ওঠার প্রিয় আবাস ভূমি।  কিন্তু সেই স্থানে এখন বনজঙ্গল, গাছপালায় ঢাকা পরেছে অতীতের প্রিয় আবাসস্থল। সেখানে সাপ, বেজি, শিয়াল ও পোকামাকর তাদের বসতি গড়ে তুলেছে। এক সময় যেখানে অত্যন্ত নিরাপদে বসবাস করত সেই আবাসস্থলে যেতে অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলতে হয়। যদি হঠাৎ করে বিষাক্ত সাপ এসে কামড় বসায়।  এ চিত্র গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার কার্যালয় ও আবাসিক এলাকার।

চিনিকলে আখ সরবরাহের জন্য ১৯৫৫ সালে স্থাপন করে এই সাহেবগঞ্জ ফার্ম। এর ১ হাজার ৮শ ৪২ একর জমিতে চাষ করা হতো আখ। লোকসানের অজুহাতে ২০০৪ সালে এর কার্যক্রম সীমিত করলে ইক্ষু খামারের কার্যক্রম অনেকটা নিষ্কৃয় হয়ে পরে। কাজ হারিয়ে আবার এই খামার ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে ফার্মের আবাসক ভবন সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুলি পরিত্যাক্ত হয়। বর্তমান আবাসিক ভবন গুলি বর্তমান অত্যন্ত করুন অবস্থায় রুপ নিয়েছে। খামারের ভবন গুলি ভেঙে পরেছে, সেখানে জন্ম নিয়েছে আগাছা সহ নানা ধরণের গাছ পালায়।

নিজের জন্মস্থান ও আবাসিক ভবনের করুন পরিনতি দেখে মর্মাহত হন অনেকেই। আবার অনেকে নিজের আবাসিক ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে সেই সে সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। সাহেবগঞ্জ খামারে জন্মগ্রহন করা ইতালি প্রবাসী আব্দুল মমিন বলেন, ১৯৬০ এখানে তার জন্ম। এখানে বেড়ে ওঠা পড়ালেখা থেকে খেলাধূলা করে শৈশব কৈশোর কাটিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে সে বাড়ীর তেমন আর কোন চিহ্ন না থাকলেও ওই সময়কার এখন কিছু আম-কাঠালের গাছ দেখে বেশ খুশী হন।

খামারের কর্মকর্তা প্রয়াত হাবিবুর রহমানের পুত্র তিনি পরিবারের সদস্য আবুল হাসনাত বলেন এখান বসবাসের যে পরিবেশ ছিল কখনও ভুলে যাবার নয়। এখন হয়ত নিজেকে অনেক ভাল অবস্থায় নিয়ে গেছেন। তারপরেও ফার্মের কথা মনে হলে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন অতীতের স্মৃতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর তাহমিদুর রহমান উজ্জল বলেন সাহেবফার্ম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই ফার্মের অতীত স্মৃতি কোন দিনই ভুলতে পারবেন না।

সাম্প্রতি সাহেবগঞ্জ ফার্মে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর এই অনুষ্ঠানে স্মৃতিময় সাহেবগঞ্জ ফার্ম নামের একটি স্মৃতিচারণ মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্মৃতিচারণ করেন চিনি পরিবারের সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর তাহমিদুর রহমান উজ্জল, ফার্মের সাবেক প্রকৌশলী (সেচ) আবুল কালাম আজাদ, ওভারশিয়ার গাজী আব্দুল জব্বার, সাবেক সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর আব্দুর রাজ্জাক, অবসর প্রাপ্ত কমাকর্তা আবুল হাসনাত, সাকলাইন রিপন সহ অন্যরা। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।