- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
‘লাক্স সুপারস্টার’ বিদুষী বর্ণিতা
অনলাইন ডেস্ক ►
‘তৌসিফ মাহবুবকে নিয়ে বলতে থাকলে শেষ হবে না। উনি মানুষ হিসেবে খুবই পিওর, জেনুইন অ্যান্ড ভেরি কাইন্ড’-নিজের প্রথম সহশিল্পী প্রসঙ্গে এমনটাই মন্তব্য করেছেন ‘লাক্স সুপারস্টার’ বিদুষী বর্ণিতা। ক্যারিয়ারের শুরুতেই তৌসিফ মাহবুবের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতাকে সহশিল্পী হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত এই নবাগতা।
কিছুদিন আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দর ও সমুদ্রসৈকতে শিহাব শাহীনের পরিচালনায় শেষ হয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র শুটিং। শেষ দিনের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন তৌসিফ ও বর্ণিতা। এই ফিল্মের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো জুটি হিসেবে পর্দায় দেখা যাবে তাঁদের।
শুটিং শেষ করে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে বিদুষী বর্ণিতা বলেন, ‘অবশেষে শুটিং শেষ হলো। শেষ দিন কক্সবাজারে শুট করেছি। কিছুটা প্যারা হলেও বেশ মজা করেই শুটিং করেছি আমরা। সেদিন বৃষ্টি হওয়াতে সেটাও অনেক উপভোগ করেছি আমি। সবকিছু মিলিয়ে চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা।’ পুরো শুটিংজুড়ে নিজের প্রথম সহশিল্পী তৌসিফ মাহবুবের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও পরামর্শে মুগ্ধ বর্ণিতা।
অভিনেতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তৌসিফ ভাইয়া অনেক আন্তরিক, অনেক সহযোগিতাপরায়ণ। তাকে নিয়ে বলতে থাকলে শেষ হবে না। উনি মানুষ হিসেবে খুবই পিওর, জেনুইন অ্যান্ড ভেরি কাইন্ড। এটা যে শুধু আমি প্রথম বলছি, এরকম না। উনাকে নিয়ে সবাই এই কথাটাই বলে। শুধু যে সিন করার বিষয়ে তা নয়, সিনের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে আমাকে নানা পরামর্শ দিয়েছেন। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন যেন সামনে আমি ভালো করতে পারি। একজন বন্ধু হিসেবে, বড় ভাই হিসেবে আমার মতো একজন নতুনকে ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন বিষয় শিখিয়ে দিয়েছেন; যেটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি খুবই ভাগ্যবতী যে, প্রথম কাজেই সহশিল্পী হিসেবে তার মত একজনকে পেয়েছি।’
তৌসিফের মানবিকতার একটি ঘটনাও শেয়ার করেছেন বর্ণিতা। তিনি বলেন, ‘একটা গল্প শেয়ার করি, যেটা আমার মনে খুব দাগ কেটেছে। একবার শুটিংয়ে আমরা ইনটেন্স একটা সিন করছিলাম, সেসময় আমার পায়ে একটা চোট পেয়েছিলাম। পা থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছিল। শুটিংয়ের তাড়াহুড়োয় আমি সেটা খেয়াল করিনি কিন্তু তৌসিফ ভাইয়া সেটা খেয়াল করেছেন। এরপর তিনি শুটিং থামিয়ে প্রোডাকশন বয়কে দিয়ে হ্যাক্সিসল, ব্যান্ডেজ আনিয়ে আগে আমার পা ব্যান্ডেজ করিয়েছেন আর আমাকে বলছিলেন, আগে নিজের খেয়াল রাখতে হবে তারপরে কাজ। এরপর আমাদের কিছুদিন কাজ হয়নি, শুটিং বন্ধ ছিল। এরপর যখন আবার আমাদের সেটে দেখা হলো তখন সবার আগে তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছেন যে, আমার পা কেমন আছে? উনি ভীষণ ট্যালেন্টেড তো অবশ্যই পাশাপাশি অনেক মানবিক। এই বিষয়টা আমার অনেক ভালো লেগেছে।’
বর্ণিতার এমন প্রশংসায় সম্মানিত বোধ করছেন তৌসিফ মাহবুব। শুধু প্রশংসাই নয়, নতুন এই অভিনেত্রীর মধ্যে দারুণ সম্ভাবনাও দেখতে পাচ্ছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে অনেক দূর যাবেন বর্ণিতা। তৌসিফ মাহবুব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্ণিতা খুবই সম্ভাবনাময়ী একজন অভিনেত্রী। ওর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যেটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটা হলো-নতুন হলেও নিজেকে প্রমাণ করার জন্য ও কখনো অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করেনি। খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে, নির্দেশনা বুঝেছে এবং খুব দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওর মধ্যে একটা স্বাভাবিক স্ক্রিন প্রেজেন্স আছে, যেটা আসলে শেখানো যায় না। অভিনয়ের অনেক কিছুই শেখা যায়, কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকের সঙ্গে একটা কানেকশন তৈরি করার ক্ষমতাটা ভেতর থেকে আসতে হয়। বর্ণিতার মধ্যে আমি সেই জিনিসটা দেখেছি।’
‘ক্যাফে আমব্রেলা’র মাধ্যমে দর্শক বর্ণিতাকে নতুনভাবে চিনবেন বলেও মনে করেন তৌসিফ। তাঁর কথায়, ‘আমার বিশ্বাস, এই কাজটা দর্শকদের ওকে নতুনভাবে চিনতে সাহায্য করবে। এটা ওর শুরু মাত্র, সামনে ও আরো অনেক ভালো কাজ করবে-এমন সম্ভাবনা আমি ওর মধ্যে দেখেছি।’ সব কিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পাবে ‘ক্যাফে আমব্রেলা’।