- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
ফুলছড়িতে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৫
ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এন্তাজ আলীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ফুলছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য উড়িয়া এলাকায় পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে হুমায়ুন কবিরের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের এন্তাজ আলীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। চলতি বছর ওই জমিতে ধনিচা চাষ করেন হুমায়ুন কবির। গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে ধনিচা কাটার উপযোগী হলে এন্তাজ আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই জমিতে যান। তাঁরা ধনিচা নষ্ট করে জমি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় হুমায়ুন কবির এতে বাধা দিলে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মাথায় তিনটি এবং বাম কানে একটি কাটা জখম হয়। পরে মাথা ও কানে মোট ২১টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। হুমায়ুন কবিরকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর বড় ভাই হারুন-অর রশিদ, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মমিনা বেগম, ভাতিজা আহাদ ও ছেলে নাইমুল কবিরকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁরাও আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উড়িয়া ইউনিয়নের ডিলার আহসান হাবিব ডিও করার জন্য ২ লাখ ২৮ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে কালীরবাজার যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকজন তাঁকেও মারধর করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ওই টাকা ছিনিয়ে নেন।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এন্তাজ আলীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ফুলছড়ি থানায় অভিযোগ করেছেন হুমায়ুন কবির। হামলার বিষয়ে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় পরিবারের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসরাকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।