- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
শিক্ষানবিশ একদল তবলা শিল্পীদের আত্মপ্রকাশ
মোদাচ্ছেরুজ্জামান মিলু ►
বাংলাদেশের প্রখ্যাত তবলা শিল্পী আসাদ খানের উদ্যোগে গত শনিবার ১২ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দারিয়াপুরের আমানউল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এবং রফিকা গীতি সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ বেতার ঢাকা থেকে সংগীত প্রযোজক হিসেবে সম্প্রতি অবসর নেওয়া আসাদুজ্জাান খান যাকে অনেকে আসাদ খান নামে চেনেন তাঁরই অবদান মূলত এই অনুষ্ঠানের প্রধান বিষয় ছিলো। তিনি গাইবান্ধার সন্তান হিসেবে নিজের জেলায় সংগীতে অবদান রাখার উদ্দেশ্যে তবলা শিল্পী তৈরীর কাজে লেগে পড়লেন। এভাবেই তিনি দারিয়াপুরে রফিকা গীতি সংস্থায় শুরু করলেন একদল ক্ষুদে তবলা শিল্পী তৈরীর কাজে।
এমনিভাবে দীর্ঘদিন আসাদ খান তবলার প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পর তাদের আত্মপ্রকাশ করার জন্য আয়োজন করেন এক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানের শিরোনাম দেয়া হয়েছে মান্না দে’র বিখ্যাত গানের কথায়-‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ কিন্তু তবলা শিল্পীরা কী শুধুই তবলার বৃন্দবাদন করবেন তা তো হয় না। উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মান্না দে’র কিছু কালজয়ী গান নিয়ে সেই অনুষ্ঠানের একক শিল্পী হিসেবে দুলাল সরকার দোলন গান গাইলেন ১০টি। সেইসাথে তবলায় সংগত করলেন আত্মপ্রকাশকৃত তবলা শিল্পীরা। আত্মপ্রকাশকৃত শিল্পীরা হলেন তীর্থ প্রতিম বর্মন, কাব্য সরকার, ওম সরকার, কাব্য মোদক, প্রীতম চন্দ্র মোদক ও শৈলজানন্দ বর্মন টুটন।
এদিকে দুলাল সরকার দোলন মান্না দে’র গান গেয়েছেন-কে তুমি তন্দ্রা হরণী, ও কেন এত সুন্দরী হলো, ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে, ললিতা গো, যখন কেউ আমাকে পাগল বলে, কাহারবা নয় দাদরা বাজাও, আমি সারারাত শুধু জেগে. . . সবাইতো সুখী হতে চায় ও জড়োয়ার ঝুমকো থেকে গাানগুলি। অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দারিয়াপুরসহ গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক সকলেই উৎসুক হয়ে জমায়েত হয়েছিলেন আমানউল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে।
শুরুতে শিউলি সিদ্দিকা শিল্পীর উপস্থাপনায় আসাদ খান-সহ সকল শিল্পীদের ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহামুন্নবী টিটুল এবং রফিকা গীতি সংস্থার সংগঠক আহসানুল হাবীব সাইদ ও শহিদুল ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক তাঁর বক্তব্যে বলেন, দারিয়াপুরের যে ঐতিহ্য ছিলো তা আবার ফিরে আসবে।
তিনি আরো বলেন সাংস্কৃতিক চর্চাকে যদি আরো প্রসারিত করা যায় তবে মানুষে মানুষে ভালোবাসা আরো বাড়বে। যে মানুষ সংগীতকে ভালোবাসে সে মানুষ কোনোদিনও অন্যায় করতে পারে না বলেও তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহামুন্নবী টিটুল বলেন, আজকে যে ক্ষুদে তবলা শিল্পীরা তাদের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে তারা অবশ্যই একদিন দেশবরেণ্য তবলা শিল্পী হিসেবে সুনাম অর্জন করবেন। কারণ আমাদের দেশবরেণ্য তবলা শিল্পী আসাদ খানের কাছেই নতুনরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।