- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
অবাধে নিধান হচ্ছে মা ও পোনা মাছ
সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদী-নালা, খাল-বিল, পকুর-ডোবা ও নিচু জলাশয়ে অবাধে নিধান করা হচ্ছে দেশীয় জাতের মা ও পোনা মাছ। এক শ্রেনির অসাধূ মাছপ্রেমী ও মাছ ব্যবসায়ীরা কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারী জালসহ মাছ ধরার উপকরণ ব্যবহার করে মাছ ধরে তা চড়া দামে বিক্রি করছেন বা নিজে খাচ্ছেন। মা ও পোনা মাছ ধরার কারনে বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় জাতের মাছ। উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ হতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও এটি রোধ করা সম্ভাব হচ্ছে না।
বেলকা ইউনিয়নের মিজানুর রহমান বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি-বাদলের কারনে ইতোমধ্যে উপজেলার পনের ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিচু জলাশয়গুলো পানিতে ভরে গেছে। সেই সাথে জলাশয়গুলোতে দেখা দিয়েছে দেশীয় নানা জাতের মা ও পোনা মাছ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধূ মাছপ্রেমীরা চায়না জাল ও বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে দিনে এবং রাতের অন্ধকারে দেশীয় জাতের মা ও পোনা মাছ নিধন করছেন। অনেকে মজা করে খাচ্ছেন আবার অনেকে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করছেন।
দহবন্দ ইউনিয়নের বেলাল মিয়া বলেন, দেশীয় জাতের পোনা মাছের স্বাদেই আলাদা। তাই বাজারের এর চাহিদা অনেক বেশি। মাছ ব্যবসায়ীরা পোনা মাছ বাজারে নিয়ে আসলেই ক্রেতাদের হুড়াহুড়ি শুরু হয়। চড়া দামে বাজার থেকে পোনা মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে মজা করে খাচ্ছে। এ কারনে জলাশয়গুলোতে এখন আর রড় মাছ পাওয়া যায় না। উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২৩টি সরকারিসহ দুই শতাধিক নিচু জলাশয় আছে।
এছাড়া উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। ইতিমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ঘনফুট চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে তা আগুনে পোড়া হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মংলু দাস বলেন, প্রকৃত মাছ ব্যবসায়ীরা বাজারে কখনই মা ও পোনা মাছ ধরে না বা বিক্রি করে না। চর এলাকার এবং গ্রাম-গঞ্জের এক শ্রেনির মাছপ্রেমীরা দিন রাত মাছ ধরে নিয়ে এসে মাছ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি করেন।
আবার অনেকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বা বাড়ি বাড়ি নিয়ে পোনা মাছ বিক্রি করে থাকেন। বাজারে সবসময় খামারের চাষ করা মাছ বিক্রি হয়ে থাকে। উপজেলা মৎস্য অফিসার মাধব রায় বলেন, তিনি সবে মাত্র এই উপজেলায় যোগদান করেছেন। অভিযান পরিচালনা করলেও অপরাধীদের জরিমানা ও সাজা দিতে পারেন না তিনি। শুধু জাল ও মাছ ধারার উপকরণ জব্দ করে, সেগুলেঅ ধংস করতে পারেন। ইতিমধ্যে তিনি ৩ হাজার ঘনফুট জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়ে দিয়েছেন।
দেশীয় জাতের পোনামাছ রক্ষা করতে হলে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। সেই সাথে ভ্রামম্যান অভিযান পরিচালনা করতে গেলে নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট থাকতে হবে। বর্তমানে উপজেলায় নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার ভুমি নেই। তারপরও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি এভাবে কখনো ভাবি নাই। জরুরী ভিত্তিতে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।