- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
ঈদ সামনে, ঝাঁজ বেড়েছে মসলার বাজারে
অনলাইন ডেস্ক ►
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর মসলার বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, জিরা ও জিরার গুঁড়াসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাহিদা ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করলেও অতিরিক্ত দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।
আজ (শনিবার) রাজধানীর রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি প্রতি পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, দেশি রসুন ১২০-১৪০ টাকা, কাঁচামারিচ ১৪০ টাকা, আমদানি করা চীনা রসুন ১৮০ টাকা, তেজপাতা ১৮০-২২০ টাকা, আদা ২০০ টাকা, ধনিয়ার গুঁড়া ২০০-২৮০ টাকা, হলুদ গুঁড়া ৪০০ টাকা, সয়াবিন তেল দুই লিটার ৪৪০ টাকা, শুকনো মরিচ গুঁড়া ৫০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০-৬০০ টাকা, জিরা ৭০০ টাকা, জিরার গুঁড়া ৮০০ টাকা, লবঙ্গ ১৪০০-১৬০০ টাকা এবং এলাচ ৪৬০০-৫৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অথচ এপ্রিল মাসে কেজি প্রতি পেঁয়াজ ৩০-৪৫ টাকা, দেশি রসুন ৮০-১১০ টাকা, কাঁচামারিচ ১০০ টাকা, আমদানি করা চীনা রসুন ১৮০ টাকা, তেজপাতা ১৮০-২২০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা, ধনিয়ার গুঁড়া ২০০-২৮০ টাকা, হলুদ গুঁড়া ৪০০ টাকা, সায়াবিন তেল দুই লিটার ৩৯০-৪০০ টাকা, শুকনো মরিচ গুঁড়া ৫০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০-৫০০ টাকা, জিরা ৫৮০ টাকা, জিরার গুঁড়া ৬৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৩৫০-১৪০০ টাকা এবং এলাচ ৪৬০০-৫৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এপ্রিল মাসের তুলনায় বর্তমানে বিভিন্ন পণ্য কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ টাকা, দেশি রসুন ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, আদা ২০ টাকা, সয়াবিন তেল (দুই লিটার) ৪০ থেকে ৫০ টাকা, দারুচিনি ৫০ থেকে ১০০ টাকা, জিরা ১২০ টাকা, জিরার গুঁড়া ১৫০ টাকা এবং লবঙ্গ ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্যদিকে আমদানি করা চীনা রসুন, তেজপাতা, ধনিয়ার গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, শুকনো মরিচ গুঁড়া ও এলাচের দামে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বাজারের আসা ক্রেতা তাসলিমা আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, শুধু ঈদের আগে না, বাংলাদেশে সব উৎসবের আগেই ওই উৎসবের প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যায়। সামনে কোরবানির ঈদ, বাজারে এসে দেখলাম এখন মসলার দাম বেড়ে গেছে। আগে যে পরিমাণ বাজার এক হাজার টাকায় করা যেত, এখন একই জিনিস কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগছে।
বাজারের মসলা ব্যবসায়ী রুবেল হাসান বলেন, ঈদ আসলে মসলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমাদের বাড়তি দামে কিনে বিক্রি করতে হয়। ফলে সবাই মনে করে আমরা বাড়িয়েছি। বিশেষ করে জিরা, মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও গরম মসলার বিক্রি এখন অনেক বেশি। তবে এবার গত বছরের তুলনায় ক্রেতা কিছুটা কম।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, কোরবানির ঈদ মূলত মসলার মৌসুম হওয়ায় এ সময় বাজারে কিছুটা চাপ থাকেই। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে। কিছু পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। যারা এবার কোরবানি দিচ্ছেন না, তাদের কারণে বাজারে চাহিদা কিছুটা কম। না হলে দাম আরও বেশি বাড়ত।
তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে চোরাই পথে মসলা আসছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি থাকলেও বাস্তবে এমন পণ্য সবসময়ই আসত। তবে এবার চাহিদা কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত দাম বাড়াতে পারছেন না। অনেক আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী কয়েক মাস আগেই মসলা মজুত করে রেখেছেন।
ক্যাব সহসভাপতি বলেন, সয়াবিন তেলের বাজারে সংকটের পেছনে সরকারের দুর্বল অবস্থানও দায়ী। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন।