• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

খাতায় সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবে নেই শিক্ষার্থী—এসএসসিতে অংশ নেয়নি কেউ



সুলতান মাহমুদ,দিনাজপুর ►
দিনাজপুর খানসামার হাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার বাস্তব চিত্র যেন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন শিক্ষার্থীও অংশগ্রহণ না করায় এলাকায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০১ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাতায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ১ জন এবং অষ্টম শ্রেণিতে ১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। উপস্থিতির খাতাও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়নি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের নামও এ বিদ্যালয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাগজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবে বিদ্যালয়টি প্রায় শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থায় রয়েছে।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষক উপস্থিতিও ছিল সীমিত। ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন। হাজীপাড়া উচ্চ  বিদ্যালয়ের ফলাফলের চিত্রও হতাশাজনক। ২০২৬ সালে কোনো পরীক্ষার্থী না থাকলেও ২০২৫ সালে ছিল মাত্র ১ জন। ২০২৪ সালে ৫ জনের মধ্যে ৪ জন এবং ২০২৩ সালে ১১ জনের মধ্যে ৮ জন উত্তীর্ণ হলেও ২০২২ সালে ১১ জনের কেউই পাস করতে পারেনি। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ক্রমাগত কমতে থাকে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার মানের অবনতি এবং ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রবণতার কারণে এ বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে সবাই।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র রায় বলেন, “২০২২ সালের খারাপ ফলাফলের পর থেকেই শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” তিনি উপস্থিতি কম থাকার জন্য আংশিকভাবে আবহাওয়াকেও দায়ী করেন।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান সরকার বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, এমপিও ভুক্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও অংশ না নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।