• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

গাইবান্ধায় আবাদি জমির টপ সয়েল বিক্রির প্রতিযোগিতা, কমছে উৎপাদন ক্ষমতা



নিজস্ব প্রতিবেদক ►

গাইবান্ধায় ইটভাটার মাটি ও বাড়িঘর নির্মাণের জন্য ভরাট কাজের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। ধান কাটার পর মাঠ ফাঁকা হলেই শুরু হয় ফসলি জমির সবচেয়ে উর্বর অংশ-টপ সয়েল কেটে বিক্রির প্রতিযোগিতা। এতে একদিকে যেমন: কমছে আবাদি জমি, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে জেলার খাদ্য নিরাপত্তা।

জানা যায়, ইটভাটার কাঁচামাল আর অপরিকল্পিত নির্মাণকাজে প্রতিদিনই গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় কেটে নেওয়া হচ্ছে আবাদি জমির টপ সয়েল। ধান কাটার পর মাঠ ফাঁকা থাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি অসাধু মাটি ব্যবসায়ী চক্র। ডাম্প ট্রাক, কাঁকড়া, ট্রলি, ভ্যান প্রভৃতি যোগে কেটে নেওয়া হচ্ছে এসব মাটি। কেউ কাঁচা টাকার লোভে, কেউ আবার পাশের জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিক্রি করছেন নিজের জমির উর্বর মাটি। এতে এক জমির ক্ষতির প্রভাব পড়ছে আশপাশের সব জমিতে। অন্যদিকে পাকা সড়কগুলো হয়ে পড়ছে ধুলা ও মাটিতে সয়লাব। এতে সড়কগুলোতেও বেড়ে গেছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গেল বছরগুলোতে ভালো আবাদ হয়েছিল যে জমিগুলোতে তেমন অনেক জমিতেই এখন হচ্ছেনা ফসলের চাষ। ইটভাটাসহ বিভিন্ন কারণে জমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় জমিগুলোর এখন বেহাল দশা।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ফসলি জমির উপরিভাগের এই টপ সয়েল শস্য উৎপাদনের প্রাণ। এভাবে অব্যাহত টপ সয়েল কাটা চলতে থাকলে শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যতে গাইবান্ধার খাদ্য নিরাপত্তাও বড় ঝুঁকিতে পড়বে। জমির টপ সয়েলে থাকে প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান, অণুজীব ও পুষ্টি উপাদান, যা ফসল উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। এই টপ সয়েল তুলে ফেললে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। টপ সয়েল বিক্রি বন্ধে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন জানান, আইন অনুযায়ী ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। টপ সয়েল কাটা ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও দলবদ্ধভাবে মাটি কাটার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধায় কৃষি আবাদি জমির পরিমাণ রয়েছে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫১০ হেক্টর। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, টপ সয়েল বিক্রি করা জমিতে স্বাভাবিক চাষাবাদ ফিরতে সময় লাগে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ বছর। তাই স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কৃষি নির্ভর এই জেলার টপ সয়েল রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।