• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

গোবিন্দগঞ্জে মৃৎ শিল্পের হাল ধরেছেন নারীরা কারিগররা



গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মৃৎশিল্পের হাল ধরেছেন নারীরা, পরিশ্রম বেশী লাভ কম, তাই মৃৎ শিল্পের প্রতি মুখ ফিরিয়ে অন্য পেশায় যাচ্ছেন পুরুষরা। এছাড়াও প্লাস্টিক পণ্যের ভিড়ে মাটির জিনিসের কদর কমে আসায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি । তারপরেও ছাড়তে না পেরে কোন রকমে বাপ-দাদার এই পেশা লোকসানের মুখেও টিকে রেখেছে নারীরা। গোবিন্দগঞ্জ- মহিমাগঞ্জ সড়কে কোচাশহরের পালপাড়ার অবস্থান।

এক সময় এখানকার তৈরী হাড়িপাতিল থেকে শুরু করে নানা ধরণের মাটির তৈরী সরঞ্জামাদি চলে যেত দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তখনকার দিনে কদর ছিল মাটির তৈরী সামগ্রীর। চাহিদার উপর নির্ভর করে উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের মাটিলা গ্রামেও গড়ে বিশাল পালপাড়া। সে সময় কোচাশহর ও মাটিলা গ্রামের তৈরী মাটির সামগ্রী জেলা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হতো। কিন্তু প্লাষ্টিক সহ অন্যান্য দ্রব্যের সামগী বাজারে আসায় এর কদর কমতে থাকায় এর চাহিদা একবারে তলানিতে এসেছে। যে সামগ্রী ছিল নিত্য প্রয়োজনের তালিকায় থাকা সাসগ্রী বদলে এখন চলে এসেছে শিশুদের খেলনা সামগ্রীতে। মাটির তৈরী পুতুল, ঘোড়া, অথর্ জমানোর ব্র্যাংক সামগ্রী এখন মেলার খেলনা সমগ্রীতে পরিণত হয়েছে। এ সব সামগ্রী সারা বছর চলে না। শুধু মাত্র মেলার সময় চলে।

যে কারণে এ পেশার ওপর নির্ভরশীল পুরুষরা অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছে। অনেকেই পড়া লেখা করে ছুটছেন চাকুরী পেছনে। কেউ মুদি দোকান, কসমেটিক দোকান অথবা অন্যা কোন ব্যবসায় যুক্ত হয়ে বেছে নিচ্ছেন। তরে এখন নারীরাই হাল ধরে টিকে রেখেছেন এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটিকে। উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের কোচাশহর পালপাড়ার মমতা রানী পালের সাথে কথা বলে জানা গেল তিনি পুতুল খেলার বয়সে শখের বসে পুতুল তৈরী করতা বাবার বাড়িতে। বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে এসে অর্থনৈতিক যোগান দিতে স্বামীর কাজে সহযোগিতায় সংসারের কাজের ফাঁকে শুরু করেন মাটির কাজ। তার হাতের ছোয়ায় মুহুর্তে কাদা মাটি থেকে তেরী হচ্ছে সড়া, টব, দইয়ের খুঁটি সহ মাটির বিভিন্ন তৈজষ পত্র। কিন্তু বাজারে আগের মত আর এসব জিনিষের চাহিদা নেই। তাই এ পেশায় পাশে পান না স্বামীকে।

পেটের দায়ে তিনি বেছে নিয়েছেন অন্য কাজ। শুধু তাই নয় এক সময় পাল পাড়ার যে পুরুষ কারিগররা মাটির জিনিষ তৈরী করে সংসারে আয় রোজগার করতেন তারা চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। একই অবস্থা গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী সহ জেলার পালপাড়া গুলিতে। একই গ্রামের অন্য নারী কাবিগরদের কথা জানা গেছে স্বামীর কষ্ট কমানোর জন্য অবসর সময়ে তিনিও এ কাজে হাত লাগান। এখন তিনি হয়ে উঠেছেন একজন পাকা মৃৎলিল্পী। আর তার স্বামী এখন মনোহারী দোকানদার। পুরুষ কারিগর রমেশ বলেন মাটি কিনতে হয়, শ্রমিক ব্যায় বেশী যে কারণে এর উৎপাদিত সামগ্রী বেঁচে লাভ হয় না।

তবে সরকারি ভাবে পিষ্ট পোষকতা করলে নতুন ভাবে কারিগরি সহয়তার সুযোগ দিলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। গাইবান্ধা বিসিক সহকারী মহা ব্যবস্থাপক, আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস, বলেন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যেবাহী মৃৎশিল্প কে টিকে রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার দিয়ে বলেন । যদি কোন মৃৎ কারিগর আর্থিক ভাবে ঋণ সহায়তা চায় তাহলে ক্ষুদ্র র্খণ কর্মসূচীর আওতাায় তাকে ঋৃণ দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়ে।