- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
ঘোড়াঘাট-পলাশবাড়ী সিমানা জটিলতা,জনগনের বাঁধার মুখে কাজ বন্ধ
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ►
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও করতোয়া নদীর ওপারে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী দুই উপজেলার মধ্যে নতুন করে সিমানা জটিলতা সৃষ্টি হলে জনগন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা নিরসন হয়। সম্প্রতি ঘোড়াঘাট-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু-সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতু পার হওয়ার আনুমানিক ১০০ মিটার পূর্ব দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা শেষ হয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শুরু। স্থানীয়দের দেখানো তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই একটি পুরোনো সীমানা ফলক রয়েছে। এতদিন সেটিই দুই জেলা ও উপজেলার সীমানা নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।কয়েকদিন ধরে ঘোড়াঘাট সিমানার ভিতরে একটি নাম ফলকের স্থাপনা নির্মানের কাজ চলছিল। প্রথমে ঘোড়াঘাটের জনসাধারন বুঝতে না পারলেও পরে সেটির কাজ বন্ধ করে দেয়।
ওয়ার্ডটির সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মমিন বলেন, ‘আগে থেকেই দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারিত রয়েছে। এরপরও কাউকে না জানিয়ে পুরোনো সীমানা ফলক না মেনে পৌরশহরের প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে নতুন করে সীমানা ফলক তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পুরোনো সীমানা ফলক অনুযায়ী করতোয়া সেতু, সেতুর ওপারে একটি শ্মশানঘাট এবং সড়কের পাশের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ঘোড়াঘাট পৌরসভার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নতুন সীমানা ফলক কার্যকর হলে সেতু, শ্মশানঘাট, কয়েকটি রেস্টুরেন্ট এবং সেতুর এ পাশের কয়েকটি বসতবাড়িও পলাশবাড়ী উপজেলার সীমানার মধ্যে পড়ে যাবে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, পূর্বের সীমানা ফলককে মাথায় রেখে প্রশাসনিক সীমানাসংক্রান্ত নথি, মৌজা ম্যাপ ও ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাব। আশা করছি, এর একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি রয়েছে শুনেছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এর কোনো সমাধান করা যায় কি না, তা দেখা হবে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু স্থাপনাটি ইতোমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে, তাই অর্থের অপচয় না করে এক পাশে ‘স্বাগতম ঘোড়াঘাট’ এবং অন্য পাশে ‘স্বাগতম পলাশবাড়ী’ লেখা যায় কি না, সে বিষয়েও সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয়রা না চাইলে সেটিও করা হবে না। এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার না করা হলে ভবিষ্যতে শুধু সীমানা নিয়ে বিতর্কেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়তে পারে জমির মালিকানা নির্ধারণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যহত হবে