• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২-৩-২০২৬, সময়ঃ সকাল ০৯:৫৭

জনদুর্ভোগের আরেক নাম গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়ক



গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ ►

নিম্নমানের সংস্কার কাজের কারণে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলজিইডির পক্ষ থেকে এই সড়কে সৃষ্ট খানাখন্দ ঢাকতে পাকা সড়কের ওপর ইট বিছিয়ে হেয়ারিং বন্ড দেওয়ায় সড়কটি উচু নীচু হয়ে নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এই পাকা সড়কটির মাঝে মাঝে ইট বিছিয়ে উচু নীচু করায় সড়কে চলাচল করতে গিয়ে বিরামহীন ঝাঁকুনিতে অসুস্থ হয়ে পরছেন বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা। আর চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যানবাহনের যাত্রীরা। তবে দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। 

উপজেলার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রংপুর চিনিকল ছাড়াও মহিমাগঞ্জ এবং কোচাশহরে বিভিন্ন কলকারখানার কারণে গোবিন্দগঞ্জ থেকে মহিমাগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বাস ট্রাক, সিএনজি, প্রাইভেট কার, নসিমন, ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ অসংখ্য যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করে মহিমাগঞ্জে আসা যাওয়া করে। এছাড়াও সাঘাটা সহ আশেপাশের মানুষ এই সড়ক ব্যবহার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে এলজিইডি মাত্র দেড় বছর আগে সড়কটি প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে। কিন্তু সংস্কার কাজ নিম্নমানের হওয়ায় সড়কে আবারও খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়। গত বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়লে এলজিইডি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কে সৃষ্ট খানা-খন্দ ঢাকতে পাকা সড়কের ওপর ইট বিছিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করে। 

কিন্তু অধিক যানবাহনের চাপ থাকায় ১৩ কিলোমিটার এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিছিয়ে দেওয়া ইট নষ্ট হয়ে ধূলাবালির সৃষ্টি করেছে। এই ধুলাবালি সড়ক সংলগ্ন বাড়ী ঘরে ঢুকে পড়ায় সেখানে বসবাস করা হয়ে পড়েছে কষ্টকর। এছাড়াও পাকা সড়কে ইটের ইয়ারিং বন্ধ থাকায় উঁচু নীচুর কারণে যানবাহন গুলি একই গতিতে চলতে পারছে না। রোগী পরিবহণ ও জরুরি চলাচলের ক্ষেত্রে পাকা সড়কে ইটের হিয়ারিং যানবাহন গুলিতে প্রচন্ড ঝাকুনি সৃষ্টি হয়। এতে এই সড়কে যানবাহন নিয়ে যাতায়াত রোগী ও বয়োবৃদ্ধরা আরো অসুস্থ হচ্ছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় দিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছে যানবাহন গুলি। এ জন্য চালক ও চলাচলকারী যাত্রী সাধারণসহ এলাকাবাসী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দ্রুত সংস্কার দাবি জানিয়েছেন। 

গাইবান্ধার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সড়কে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুতই সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের জন্য উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।

তবে বর্ষার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত মেরামতের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটি প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।