- মাধুকর প্রতিনিধি
- ৫ ঘন্টা আগে
নীল-আকাশি জার্সিতে মেসি অধ্যায় শেষ
অনলাইন ডেস্ক ►
মাঠ ছাড়ার সময় লিওনেল মেসির চোখের জল কথা বলেছিল, ছিল রহস্যও। ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে নীরবতা সেটা প্রকট করেছে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন থমকে দাঁড়ানোর পর ৩৯ বছর বয়সী কিংবদন্তি ছিলেন বিধ্বস্ত—যেন এটাই বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ দৃশ্য। পুরস্কার বিতরণ পর্ব শেষ হতেই ঘনীভূত হয় অনিশ্চয়তার মেঘ। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো বাক্য বিনিময় না করেই সতীর্থদের নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি।
জাতীয় দলের হয়ে ভবিষ্যতে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না—কোনো ইঙ্গিত দেননি। এই নীরবতা অবশ্য নিজে থেকেই কোনো বিদায়ী ঘোষণা নয়। মেসির বয়স এখন ৩৯। এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার কারণেই স্বাভাবিকভাবে জল্পনা উসকে উঠেছে যে, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এমনটা এই প্রথম নয়—২০১৬ সালে কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হারের পরও একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা পরে দুই মাসের মাথায় প্রত্যাহার করে নেন। ২০২২ বিশ্বকাপের আগেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—এটাই হতে পারে শেষ বিশ্বমঞ্চ। অথচ শেষ পর্যন্ত ফিরে এসে কাতারে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন, উপস্থিতি ছিল এবারের আসরেও। এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা।
দলের সূত্রের বরাত দিয়ে আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গ্যাস্তন এদুলের বরাত দিয়ে জানান, এই ফাইনালই মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ নাও হতে পারে; বরং আগামী কোপা আমেরিকা পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাতে পারেন। ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির উপস্থিতি প্রায় অসম্ভবই মনে হচ্ছে—কারণ ততদিনে তার বয়স দাঁড়াবে ৪৩ বছরে। এই হারের পরও এই আসর আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে। এই বয়সেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে নিয়ে গেছেন মেসি এবং এমনসব মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন, যা এই বয়সে বেশিরভাগ ফুটবলারের কাছেই কল্পনাতীত। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা—উভয় শিরোপাই তিনি এরই মধ্যে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন। যা তার প্রতিভা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও প্রভাব নিয়ে সব বিতর্কের ইতি টেনেছে বহু আগেই।
মাঠের গল্প শেষ হলেও হোটেলের প্রাঙ্গণে তখন চলছিল আরেক বিষাদের অধ্যায়। নিউজার্সির উপকণ্ঠে হিলটন শর্টস হিলস হোটেলের সামনে ফাইনালের পর আলবিসেলেস্তেদের বিদায় জানাতে হাজির ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন সাংবাদিক আর মুষ্টিমেয় কিছু সমর্থক। এত বছরের অর্জনের পরও দলটির প্রাপ্য ছিল হয়তো অনেক বেশি উষ্ণ বিদায়—কিন্তু ফুটবলের নিয়মই বোধহয় এমন, পরাজিতদের জন্য থাকে শুধু নীরবতা। রাত ১টা নাগাদ পার্কিং লটে একা হাঁটতে বেরিয়ে কাঁদছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি—এমনটাই জানিয়েছেন মেসির জার্সি পরা দুই তরুণ সমর্থক। ঘণ্টাখানেক পর দলের বাস যখন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়, তাতে ছিলেন না মেসি। রদ্রিগো ডি পলের সঙ্গে মিয়ামি হয়ে ব্যক্তিগতভাবে রোজারিওর পথে রওনা দেন তিনি।
লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নিকোলাস ওতামেন্দি ও গঞ্জালো মন্তিয়েলের মতো খেলোয়াড়রাও নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে সরাসরি অন্যত্র ছুটে যান। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, ‘আসরজুড়ে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থন প্রমাণ করেছে, জাতীয় দল সব আর্জেন্টাইনের জন্য কতটা মূল্যবান। ফলাফল যা-ই হোক না কেন।’ মাঠের রূপকথা শেষ, ট্রফিও নেই হাতে—তবু প্রশ্নটা থেকেই যায়। সময়ের কাছে হার মানা এক কিংবদন্তির শেষ অধ্যায় কি এখানেই লেখা হয়ে গেল, নাকি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তনের গল্প আবারও লিখবেন মেসি নিজেই? উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে, কারণ কিংবদন্তিরা কখনো তাড়াহুড়া করে বিদায় বলেন না।