- মাধুকর প্রতিনিধি
- তারিখঃ ২৯-৭-২০২৩, সময়ঃ সকাল ০৯:৫১
পবিত্র আশুরা আজ
মাধুকর ডেস্ক►
আজ শনিবার (২৯ জুলাই) বেদনাবিধুর সেই ১০ মহররম। হিজরি ৬১ সনের এই দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবীর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন ও তার পরিবারের সদস্যরা শাহাদাত বরণ করেন বিশ্বাসঘাতকদের হাতে। মর্মান্তিক এ ঘটনাকে স্মরণ করে এদিন বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
আরবি আশারা থেকে আশুরা শব্দটি এসেছে, যার অর্থ ১০। মহররম মাসের ১০ তারিখ ১০টি বড় ঘটনা সংগঠিত হওয়ায় এই তারিখকে আশুরা বলা হয়। আর ইসলাম ধর্ম মতে, এই দিনটির তাৎপর্যও অনেক বেশি। শোকসন্তপ্ত মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি আশুরা বলেও পরিচিত। ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূণ পরিবেশে নানা-কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা।
এদিন সকালে ছাড়াও মধ্যরাতে শোক মিছিলের ৩০০ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে ঢাকাবাসীর। তবে ২০১৫ সালে হোসেনি দালানে বোমা বিস্ফোরণের পর থমকে যায় সেই রীতি। ৭ বছর পর আবারও সেই সুযোগ পেয়েছে ইমাম হোসাইনের ভক্তকূল। তাই শোক আর প্রতিবাদ প্রকাশে রাস্তায় হাজারো মানুষ। শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাত ২টায় পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের সামনে থেকে বের হয় শোক মিছিল।
আয়োজক কমিটি জানায়, মূল মিছিল শুরু হবে সকাল ১০টায়। তবে এদিন রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় হতাশ তারা। পবিত্র আশুরার দিনে ঢাকার চার প্রবেশমুখে আওয়ামী লীগ-বিএনপি পাশাপাশি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি করবে বিএনপি। একই সময়ে সতর্ক অবস্থানে থাকবে ক্ষমতাসীনরা।
আগে সাধারণত কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন কোনো কর্মসূচি করতো না রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু এবার বড় দুদলই মাঠের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, শোক মিছিলকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
- মাধুকর প্রতিনিধি
- তারিখঃ ৬-৭-২০২৫, সময়ঃ সকাল ১১:১০
পবিত্র আশুরা আজ
মাধুকর ডেস্ক►
আজ ১০ মহররম। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ দিন। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা হিসেবেও পরিচিত।
মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, দান-খয়রাত ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।
আরবি ‘আশারা’ শব্দের অর্থ দশ। আর আশুরা মানে দশম। আর মহররম অর্থ সম্মানিত। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শহীদ হন।
শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা জোগায়।
শিয়া সম্প্রদায় এদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে তাজিয়া মিছিল উল্লেখযোগ্য।
বাসস জানিয়েছে, পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পবিত্র আশুরা জুলুম ও অবিচারের বিপরীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় মানবজাতিকে শক্তি ও সাহস জোগাবে।
পবিত্র আশুরার শোকাবহ এই দিনে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.)–সহ কারবালার প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই মহিমান্বিত দিনটির তাৎপর্য ধারণ করে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে সবার প্রতি বেশি বেশি নেক আমল করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
- মাধুকর প্রতিনিধি
- তারিখঃ ২৬-৬-২০২৬, সময়ঃ সকাল ০৯:১২
পবিত্র আশুরা আজ
অনলাইন ডেস্ক ►
আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা, ১৪৪৮ হিজরি সনের ১০ মহররম। ইসলামী ইতিহাসে দিনটি একই সঙ্গে আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও শোকের স্মৃতি বহন করে। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটি। ‘আশুরা’ শব্দের অর্থ দশম। মহররম মাসের ১০ তারিখে দিনটি পালিত হওয়ায় একে আশুরা বলা হয়।
আশুরা ইসলামী ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। হাদিস অনুযায়ী, এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা ফেরাউনের নির্যাতন থেকে মুক্তি পান। এ ঘটনার স্মরণে শুকরিয়াস্বরূপ এই দিনে রোজা রাখার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইহুদিদের অনুসৃত প্রথার সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার আগের বা পরের দিনসহ আরো একটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
একটি সহিহ হাদিসে আশুরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখেন ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখছে। তিনি জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, এই দিনে আল্লাহ বনি ইসরাঈলকে শত্রুর কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন, তাই হজরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক নিকটবর্তী।’ এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও এই রোজা পালনের নির্দেশ দেন (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০০৪)।
মুসলমানদের একটি বড় অংশ এই দিনে নফল রোজা পালন করেন। ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। নবী করিম (সা.) নিজেও এই রোজা পালন করেছেন এবং উম্মতকে তা পালনে উৎসাহিত করেছেন। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম ঘটনাক্রমে, বহু বছর পর এই একই দিনে (১০ মহররম) ঘটে যায় কারবালা প্রান্তরে হৃদয়বিদারক ঘটনা। ৬১ হিজরির ১০ মহররমে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যসহ সঙ্গীরা শাহাদাতবরণ করেন।
আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পৃথক বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথে চলার অনুপ্রেরণা দেয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি সবাইকে আশুরার শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহবান জানান।
আশুরা উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ, দোয়া ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অনেকে গতকাল (৯ মহররম) ও আজ নফল রোজা পালন করেছেন। শিয়া সম্প্রদায় কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মরণে তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এ উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।